ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের উদ্বোধনী দিনটা অস্ট্রেলিয়ার জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের। ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পথে একমাত্র স্টিভ স্মিথই কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু সেই ৭১ রানের ইনিংসটিও শুরুতেই শেষ হয়ে যেতে পারতো। আর ম্যাচ শেষে স্মিথ নিজেই স্বীকার করছেন যে, এবাদত হোসেনের বলে তিনি সম্ভবত সত্যিই এজ করেছিলেন! অর্থাৎ ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল বল।
মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর তখন ৩ উইকেটে ৬৮। স্মিথের রান মাত্র ৭। খেলেছেন ২৩ বল। ইনিংসের ২১তম ওভারের চতুর্থ বলটি করেন বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। অফ-স্টাম্পের বাইরের বলটি স্মিথকে খেলতে প্রলুব্ধ করে। ডানহাতি ব্যাটার ব্যাট বাড়িয়ে দেন, বল চলে যায় উইকেটকিপারের হাতে। তার পরই বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা জোরালো আবেদন করেন। কিন্তু মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি।
বাংলাদেশ তাতে রিভিউ নেয়। এরপর আসে প্রযুক্তির খেলা- রিয়েল-টাইম স্নিকো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় সেখানে স্পষ্ট কিছুই ধরা পড়েনি! ফলে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।
কিন্তু দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্মিথকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়- তিনি কি সত্যিই বলটিতে এজ করেছিলেন? তার উত্তর ছিল চমকে দেওয়ার মতো সোজাসাপ্টা, ‘আমার মনে হয়, হ্যাঁ।’
তিনি স্বীকার করেন, ওই মুহূর্তে তিনি ভাগ্যবান ছিলেন, ‘আমি ভাগ্যবান ছিলাম? মনে হচ্ছে, হ্যাঁ। কখনো কখনো এমন ভাগ্য কাজে লাগে।’
প্রযুক্তির ওপর নিজের আস্থার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্মিথ বলেন, ‘সাধারণত প্রযুক্তি বেশ ভালোই কাজ করে। হয়তো আমি এজ করিনি, জানি না। কিন্তু আমি নিশ্চিতভাবেই কিছু একটা অনুভব করেছিলাম।’
এরপরই আসে দিনের সবচেয়ে আলোচিত স্বীকারোক্তি, ‘আমাকে আউট দেওয়া হলে আমি মাঠ ছেড়ে চলে যেতাম। কিন্তু হ্যাঁ, আজ প্রযুক্তিই বোধহয় আমাকে বাঁচিয়েছে।’
এটাই অবশ্য স্মিথের প্রথম জীবন পাওয়া নয়। ইনিংসের শুরুতেই, যখন তার রান মাত্র ২, তখনও তাকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবাদতের বলেই সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তানজিদ তামিম ক্যাচটি ধরে রাখতে পারেননি। সেই জীবন কাজে লাগিয়ে স্মিথ শেষ পর্যন্ত নিজের ৪৫তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন।








