অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে যখন অনিশ্চয়তার ছায়া, তখন আশার আলো হয়ে সামনে এসেছে ম্যাট রেনশর পুরোনো রেকর্ড। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুবার খেলেই সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। একবার ১৭০, আরেকবার করেছেন ১৩৫। এবার সেই মাঠেই টেস্ট দলে ফিরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় এই বাঁহাতি ব্যাটার।
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন রেনশ। তার সঙ্গে ওপেন করার কথা ট্রাভিস হেডের। উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারি প্রায় নিশ্চিত করেই দিয়েছেন এই ওপেনিং জুটির কথা।
ক্যারির বিশ্বাস, মানসিকভাবে এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছেন রেনশ, ‘ও (রেনশ) এখন মানসিকভাবে খুব ভালো জায়গায় আছে এবং তার ক্রিকেটেও সেটার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। তার এখন তরুণ পরিবার আছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু আন্তর্জাতিক সাদা বলের ক্রিকেটও খেলেছে। গত কয়েক বছরে সে দলের আশপাশেই ছিল। যে চ্যালেঞ্জই সামনে এসেছে, সে দারুণভাবে সামলেছে। ট্রাভিসের সঙ্গে রেনার্সকে মাঠে দেখার অপেক্ষায় আছি।’
বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাই অস্ট্রেলিয়ায় পুরুষদের টেস্ট আয়োজন করা ১২তম মাঠ হতে যাচ্ছে। আর এই মাঠে রেনশর রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখানে মাত্র দুই ম্যাচ খেলেছেন তিনি। দুটিতেই করেছেন সেঞ্চুরি ১৭০ ও ১৩৫ রান।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ১৯ বছর বয়সে ম্যাকাইতে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন রেনশ। তার এক বছরেরও কম সময় পরই জায়গা করে নেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে।
২০২৩ সালে একই মাঠে করেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। সেই সময় অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তার সর্বশেষ ১৪ টেস্টের ক্যাপও খুব বেশি পুরোনো নয়।
খুব অল্প বয়সেই টেস্ট ক্রিকেটে সুযোগ পাওয়ার স্মৃতি রেনশরও মনে আছে। নাইন নিউজপেপার্সকে তিনি বলেছেন, ‘দশ বছর আগের নিজের ছবি দেখি, দেখি টেস্ট ক্রিকেট খেলছে একটা ছোট্ট শিশু। ব্যাপারটা সত্যিই পাগলাটে ব্যাপার ছিল। তবে এবার সুযোগ পেয়ে আশা করছি, মানসিকভাবে অনেক ভালো অবস্থায় থাকবো।’
রেনশর টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল খুব অল্প বয়সে। এরপর ক্যারিয়ারে এসেছে উত্থান-পতন, ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন এবং জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা। কোভিডকালে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ব্যাটিং অর্ডারে নিচে নেমে খেলতে শুরু করেন রেনশ। ২০১৮ সালের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেঞ্চুরি পাচ্ছিলেন না তিনি। মিডল অর্ডারে গিয়ে কিছুটা সাফল্যও পান। ২০২২-২৩ মৌসুমে টেস্ট দলে ফেরার সময়ও তাকে মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। স্পিন খেলার দক্ষতার কারণে উপমহাদেশেও তার ওপর আস্থা ছিল। তবে সেই প্রত্যাবর্তন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। পরে আবার শেফিল্ড শিল্ডে ওপেনিংয়ে ফিরে যান তিনি।
২০২৩ সালের শুরুতে নিউজিল্যান্ড ‘এ’-র বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি করেন। একই বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রধানমন্ত্রী একাদশের হয়ে তিন নম্বরে ব্যাট করে সেঞ্চুরি করেন। এর মাঝেই ম্যাকাইয়ে করেছিলেন সেই ১৩৫ রানের ইনিংস।
তারপরও ডেভিড ওয়ার্নার অবসর নেওয়ার পর তাকে প্রথম পছন্দ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে শেফিল্ড শিল্ডে তার গড় ছিল ২৪.৯৩, পরের মৌসুমে ২৯.১৭। যে কারণে অন্যদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু গত মৌসুমে পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। তিনটি সেঞ্চুরিসহ ৪৯.৯০ গড়ে রান করেন রেনশ, যা শেফিল্ড শিল্ডের সর্বোচ্চ ২৫ রান সংগ্রাহকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গড়।
টেস্ট দলে ফেরার আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয়েছে তার। এমনকি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলেও শেষ মুহূর্তে জায়গা পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশের বিপক্ষে জুনের ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য তার শেষ দুটি ইনিংস ছিল ০ ও ০। মিরপুরে তিন ও চার নম্বরে ব্যাট করেও সুবিধা করতে পারেননি। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপরাজিত ৮৯ রান করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান।
ক্যারির মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে রেনশ আরও পরিণত হয়েছেন, ‘ত্রিশের কোঠায় গেলে নিজের সম্পর্কে, খেলা সম্পর্কে এবং চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে অনেক কিছু শেখা যায়। রেনশ ক্রিকেটার হিসেবে পরিণত হয়েছে। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুটোর মধ্যে সে এখন ভালো ভারসাম্য তৈরি করেছে। শেফিল্ড শিল্ডে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে ওপেন করছে। গত মৌসুমে তিনটি সেঞ্চুরি করেছে। এ চিত্র এটাই দেখায় যে সব ধরনের কন্ডিশনে খেলার সামর্থ্য তার আছে।’









