চার রানে আউট! আর তাতেই যেন প্রশ্নের মুখে পড়ে গেলো মার্নাস লাবুশেনের পুরো টেস্ট ক্যারিয়ার। ম্যাকাইতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে শরিফুল ইসলামের বলে মাত্র ৪ রানে বোল্ড হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটার। আউটটিতে ভাগ্যেরও ভূমিকা ছিল, কিন্তু দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা এবার সাবেক অজি ক্রিকেটারদের ধৈর্যের সীমা পেরিয়ে গেছে। রিকি পন্টিংয়ের সাফ কথা, ‘অন্য কাউকে দেখার সময় এসেছে।’
লাবুশেনের আউটটি নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। তবে লাবুশেনের সাম্প্রতিক ফর্মের দিকে তাকালে তার এই ব্যর্থতা আর নিছক দুর্ভাগ্য হিসেবে দেখছেন না অনেকেই।
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার রান ছিল ১ ও ৩১। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রানে পৌঁছেও বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ নষ্ট করেন তিনি তাইজুল ইসলামের ফুল লেংথ বলের বিপক্ষে অপ্রয়োজনীয় শট খেলতে গিয়ে। দ্বিতীয় টেস্টের আগে ফক্স ক্রিকেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই আউটের ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন লাবুশেন, ‘আমি হয়তো একটু তাড়াহুড়ো করতে চেয়েছিলাম। বোলারের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করার সুযোগ ছিল এবং সম্ভবত এমন সময়ে এমন একটি শট খেলেছিলাম, যেটা আসলে আমার খেলার প্রয়োজন ছিল না।’
তার আশা ছিল, আগের ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন। কিন্তু সেই সুযোগও কাজে লাগাতে পারলেন না তিনি।
লাবুশেনের সর্বশেষ আউটে ভাগ্যের বড় ভূমিকা ছিল ঠিকই। তবে তিনি ক্রিজে এতটাই সরে গিয়েছিলেন যে লেগ স্টাম্প উন্মুক্ত হয়ে যায়। বলটি মিস করতেই তা সরাসরি স্টাম্পে গিয়ে আঘাত করে। তাই লাবুশেনকে নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং।
চ্যানেল সেভেনে কথা বলার সময় পন্টিং বলেন, ‘তারা মার্নাসকে নিয়ে যা করার চেষ্টা করছে, আমি সেটাকে সম্মান করি। তাকে আবার সেরা অবস্থায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে, সেটাও আমি সম্মান করি। কিন্তু এখন অনেক বেশি সময় হয়ে গেছে।’
পন্টিং আরও জানান, এই সিরিজ শুরুর আগেই তিনি লাবুশেনকে বাদ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন, ‘আগেই বলেছি, এই সিরিজের শুরুতেই আমি পরিবর্তন আনতাম। কারণ আমার কাছে যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে সে নিজের সেরা ফর্ম ফিরে পাওয়ার জায়গা থেকে অনেক দূরে ছিল।’
লাবুশেনের সর্বশেষ আউটটি যে দুর্ভাগ্যজনক ছিল, সেটিও স্বীকার করেছেন পন্টিং, ‘আজ সে দুর্ভাগা ছিল। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
তবে দীর্ঘদিন ফর্মহীন থাকলে এমন দুর্ভাগ্য যেন আরও বেশি করে সামনে আসে বলেও মনে করেন তিনি, ‘কিন্তু আপনি যখন সমস্যায় থাকেন, ফর্ম ও ছন্দ খুঁজতে থাকেন, তখন এমন ঘটনাও আপনার সঙ্গে বেশি ঘটতে থাকে।’ তাই শেষ পর্যন্ত পন্টিংয়ের কথা একেবারেই স্পষ্ট, ‘আমি মনে করি, এখন অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়ার সময় এসেছে।’









