বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে ছড়িয়ে আছে শত বছরেরও বেশি পুরোনো অসংখ্য স্থাপনা। প্রাসাদ, জমিদারবাড়ি, মসজিদ, গির্জা, সভাকক্ষ কিংবা ঔপনিবেশিক আমলের ভবন এসব স্থাপনা শুধু পুরোনো ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডও দেশের উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যস্থাপনাগুলোর তালিকায় আহসান মঞ্জিল, কার্জন হল, গোলাপ বাগান প্রাসাদ, ষাট গম্বুজ মসজিদ, তাহাজহাট প্রাসাদসহ নানা স্থাপনা রেখেছে।
ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এমন কয়েকটি পুরোনো স্থাপনা হতে পারে ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার দারুণ গন্তব্য।
আহসান মঞ্জিল, ঢাকা
বুড়িগঙ্গার তীরে পুরান ঢাকার কুমারটুলিতে দাঁড়িয়ে থাকা আহসান মঞ্জিল ঢাকার অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা। এর নির্মাণ শুরু হয় ১৮৫৯ সালে এবং শেষ হয় ১৮৭২ সালে। একসময় এটি ছিল ঢাকার নবাব পরিবারের আবাস ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। বর্তমানে ভবনটি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষিত।
গোলাপি রঙের এই প্রাসাদে ঘুরতে গেলে একসঙ্গে দেখা যায় নদী, পুরান ঢাকার পুরোনো নগরজীবন এবং ঔপনিবেশিক আমলের স্থাপত্যের ছাপ।
নর্থব্রুক হল, পুরান ঢাকা
বুড়িগঙ্গার কাছাকাছি লাল ইটের নর্থব্রুক হল, স্থানীয়ভাবে পরিচিত লালকুঠি নামে, নির্মিত হয় ১৮৭৪ সালে। ব্রিটিশ আমলে এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। নাটক, সংগীতানুষ্ঠান ও বিভিন্ন নাগরিক সভার আয়োজন হতো এখানে।
পুরান ঢাকার ব্যস্ততার মাঝেও ভবনটির পুরোনো স্থাপত্য এখনো ভ্রমণকারীদের নজর কেড়ে নেয়।
রূপলাল হাউস, পুরান ঢাকা
ফরাশগঞ্জের রূপলাল হাউস পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। পুরোনো এই ভবনটি ঘিরে থাকা সরু গলি, নদীর কাছাকাছি অবস্থান এবং আশপাশের পুরোনো নগর কাঠামো মিলিয়ে এখানে ভ্রমণ করলে পুরান ঢাকার অন্য এক সময়ের আবহ অনুভব করা যায়। রূপলাল হাউসকে পুরান ঢাকার উল্লেখযোগ্য ঐতিহ্যস্থাপনাগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে।
কার্জন হল, ঢাকা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কার্জন হলও শতবর্ষ পেরোনো স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডের ঐতিহ্যস্থাপনার তালিকায়ও এর নাম রয়েছে।
এর স্থাপত্যে ঔপনিবেশিক ও স্থানীয় নির্মাণরীতির মিশ্রণ দেখা যায়। ঢাকা শহর ভ্রমণের সময় পুরোনো স্থাপত্য দেখতে চাইলে কার্জন হলের আশপাশ ঘুরে দেখা যেতে পারে।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যের পথে
পুরান ঢাকা আসলে এক বিশাল উন্মুক্ত ইতিহাসের বই। আহসান মঞ্জিল, নর্থব্রুক হল, রূপলাল হাউসের পাশাপাশি এখানে রয়েছে আর্মেনিয়ান চার্চ, তারা মসজিদ, হোসেনি দালান, বড় কাটরা, ছোট কাটরাসহ বহু ঐতিহাসিক স্থাপনা।
তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোই দীর্ঘদিনের অবহেলা, নগরায়ণ ও বাণিজ্যিক চাপের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলোর বেশ কয়েকটির জীর্ণদশার কথাও উঠে এসেছে।
তাই শতবর্ষী স্থাপনা দেখতে গেলে শুধু ছবি তুলে ফিরে আসা নয়, স্থাপনাগুলোর ইতিহাস জানা, সংরক্ষণে সচেতন হওয়া এবং স্থানীয় নিয়ম মেনে ঘুরে দেখাও ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।









