অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। শুরুর ম্যাচে ছিল ব্যাটিং ব্যর্থতা। কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে এসে সাতবারের ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ইতিহাস গড়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাটিং বিভাগে। ৬ উইকেটে করেছে ২২০ রান। যা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
শুরুতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দেন ওপেনার ফারজানা। চতুর্থ ওভারে ১৩ বল খেলে কোনো রান না করেই ফেরেন তিনি। এরপর আরও বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম আট ওভারের মধ্যেই হারায় ৩ উইকেট!
সেখান থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হাল ধরেন সোবহানা মোস্তারি ও নিগার সুলতানা। শুরুর সুইং সামলে ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে তোলেন তারা। ৬৬ বলে ফিফটি পূরণ করেন মোস্তারি।
প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের যে চিত্র দেখা গিয়েছিল, এবার তার চেয়ে অনেক ভালো পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছেন মোস্তারি। তার ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক বোলাররা চাপে পড়ে যান, ফিল্ডিংয়েও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হন তারা। অন্য প্রান্তে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় তার ব্যাটিং কিছুটা ধীর ছিল।
এরপর ১২৩ বলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম বাংলাদেশি নারী ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েছেন তিনি। এটি তার ক্যারিয়ারেরও প্রথম। ৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর মোস্তারি ও সুলতানা গড়েন ১৯৫ রানের জুটি, যা ব্রিসবেনের মাঠে নারী ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড।
শেষ পর্যন্ত ১৩৪ বলে ১১৮ রান করে বোল্ড হন সোবহানা মোস্তারি। বাংলাদেশের নারী দলের হয়ে এটিই ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আগের সর্বোচ্চটি ছিল ফারাজানা হকের ১০৭। সার্বিকভাবে চতুর্থ নারী ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি করেছেন সোবহানা। অন্য প্রান্তে সুলতানা অপরাজিত থাকেন ১১৪ বলে ৭৪ রান করে। তবে প্রয়োজনের সময় রান তোলার গতি বাড়াতে পারেননি তিনি। মোস্তারির আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে না পারার খেসারত পরে বাংলাদেশকে দিতে হতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪টি উইকেট নিয়েছেন মেগান শুট। বাকি উইকেটটি পেয়েছেন গার্থ।