ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯৯ রানের বড় জয় পেয়েছিল জিম্বাবুয়ে। তাতে ফাইনালে ওঠার পথে তখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানদের সামান্য ব্যবধানে হারালেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। উল্টো আফগানদের কাছে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালের সমীকরণ কঠিন করে ফেলেছে তারা। আর তাতে বাংলাদেশের সামনে সহজ হয়েছে ফাইনালে ওঠার পথ। বুধবার নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারালেই ফাইনালে জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ।
আবুধাবিতে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়েছে আফগানিস্তান। আগে ব্যাট করে সেদিকউল্লাহ অটলের সেঞ্চুরি ও ইব্রাহিম জাদরানের ঝলমলে ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে তারা। পরে বল হাতে আফগান বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।
শুরুতে আফগানিস্তানের জয়ের ভিত গড়ে দেন অটল ও জাদরান। অটল করেন ১০২ রান, আর জাদরানের ব্যাট থেকে আসে ৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাদের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় আফগানিস্তান। যদিও পরের দিকে কয়েকটি দ্রুত উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দল, তবু প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো রান তুলে নিতে সক্ষম হয় তারা। সব মিলে করে অলআউট হওয়ার আগে করে ২৯৪ রান। অটলের ১১০ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। জাদরানের ৯৬ বলের ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ২টি ছয়।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ও আর্নেস্ট মাসুকু তিনটি করে উইকেট নেন। সিকান্দার রাজা পান একটি উইকেট। তবে আফগানিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে এই সাফল্য শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই জিম্বাবুয়েকে চাপে রাখেন ফজলহক ফারুকি। নতুন বলে সুইং আদায় করে নিয়ে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি পেসার। অন্য প্রান্ত থেকে চাপ ধরে রাখেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। এরপর স্পিনাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেন।
সেই আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন রশিদ খান। তার ঘূর্ণি সামলাতে পারেননি জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। চার উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন আফগান অধিনায়ক। সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল ছাড়া জিম্বাবুয়ের আর কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৮.৪ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস। রাজা ধীর গতির ইনিংসে ৮০ বলে করেন ৪৮ রান। বার্লের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ বলে ৩১। ওপেনার ব্রায়ান বেনেটের ব্যাট থেকেও আসে ৩১ রান। এই জয় এই সংস্করণে আফগানিস্তানের চতুর্থ বৃহত্তম জয়।