বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে সেই তাইজুল ইসলামই যেন নিজের ছায়া হয়ে আছেন। তার ফর্ম নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। এমনকি সিলেট টেস্টে তাকে ছাড়াই একাদশ সাজানোর চিন্তাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কোচ। ঢাকা টেস্টে আট উইকেটে হারের পর বৃহস্পতিবার সিলেটে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সামনে।
জুলাইয়ে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রানে ৭ উইকেট নেওয়ার পর থেকে চার টেস্টে মাত্র ৫ উইকেট পেয়েছেন তাইজুল। এই সময়ের মধ্যে চোটও ভুগিয়েছে তাকে। বিশেষ করে বাঁ কাঁধের চোটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
সিলেট টেস্টের আগে তাইজুলের ফর্ম নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে সিমন্স বলেন, ‘এটা ভীষণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ, সে আমাদের দলের অন্যতম প্রধান স্পিনার। তাইজুলের সঙ্গে তার ফর্ম নিয়ে কথা বললে বিষয়টি তার নিজের জন্য উদ্বেগের। দলের জন্যও। কারণ, সে আমাদের দলের অন্যতম বড় অস্ত্র।’
তাইজুলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের অবস্থা এতটাই নাজুক যে তাকে ছাড়াই সিলেট টেস্টে মাঠে নামার কথা ভাবতে পারে বাংলাদেশ। সে ক্ষেত্রে একাদশে থাকবেন না কোনো বাঁহাতি স্পিনারও। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সিমন্স বলেন, ‘যখন আমরা আলোচনা করব, তখন বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।’
তবে বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা শুধু তাইজুলের ফর্ম নয়, ব্যাটিংও। ডারউইন টেস্টে জয়ের পর থেকে কোনো সংস্করণেই জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পাওয়া সেই স্মরণীয় জয়ের পর এশিয়ান গেমসে দুটি ম্যাচেই হেরেছে দল। এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও ব্যর্থতা, সবশেষ ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার।
সিমন্সের মতে, ডারউইন টেস্টের পর থেকে ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারছে না দল। তিনি বলেন, ‘ডারউইনের পর থেকে আমরা ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। আমাদের মধ্যে যে সামর্থ্য আছে, তা দেখিয়েছি। ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা থাকলে কী করা সম্ভব, সেটিও প্রমাণ করেছি। কিন্তু ডারউইন টেস্টের পর যে সংস্করণেই খেলেছি, ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি।’
তবে ডারউইনের পারফরম্যান্স ফিরিয়ে আনা কঠিন বলে মনে করেন না বাংলাদেশ কোচ। তার দাবি, অনুশীলনে খেলোয়াড়েরা আগের মতোই পরিশ্রম করছেন। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটছে না।
সিমন্স বলেন, ‘ডারউইনে যেভাবে খেলেছি, সেই পারফরম্যান্স আবার দেখানো কঠিন বলে আমি মনে করি না। খেলোয়াড়েরা কঠোর পরিশ্রম করছে। ডারউইনের আগে যেভাবে অনুশীলন করেছে, এখনও একই পদ্ধতিতে কাজ করছে। মে মাসে ঘরের মাঠে পাকিস্তান সিরিজের আগেও আমরা একইভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু ম্যাচে সেটা কাজে লাগাতে পারছি না। শুধু মাঠের বাইরে কঠোর পরিশ্রম করলেই হবে না, ম্যাচেও সেই পর্যায়ের পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।’
ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। রোস্টন চেজ, জোমেল ওয়ারিকান ও জশুয়া বিশপের স্পিনে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। বিপরীতে বাংলাদেশের স্পিনাররা প্রথম ইনিংসেই পেয়েছেন ৮ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে আর কোনো উইকেট নিতে পারেননি তারা।
প্রথম টেস্টে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার দায় স্বীকার করেছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের দায় নিচ্ছি। যতটা ভালো ব্যাটিং করা উচিত ছিল, তা করতে পারিনি। তারা ভালো বোলিং করেছে, তবে এটাই টেস্ট ক্রিকেট। প্রতিপক্ষ এখানে ভালো বোলিং করতেই এসেছে। স্পিনারদের বিপক্ষে আমাদের ব্যাটিংয়ের ধরন, কীভাবে রান করব, কীভাবে রক্ষণ সামলাব-সবকিছুতেই উন্নতি করতে হবে। প্রথম টেস্টে আমরা এসব ঠিকভাবে করতে পারিনি।’
প্রথম টেস্টে কনকাশনের শিকার হওয়া মুমিনুল হক দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারছেন না। তার জায়গায় আবারও তিন নম্বরে ব্যাট করবেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। আঙুলের চোটের কারণে ঢাকা টেস্টে না খেলা মুশফিকুর রহিম মিডল অর্ডারে ফিরছেন।
ভুটানকে হারিয়ে হামজার জন্য পথটা সহজ করতে চায় বাংলাদেশ