ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে করা একমাত্র গোলে রহমতগঞ্জকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকেট পেয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। আজ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলাটি নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য শেষ হয়। পরে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ায়। সেখানে ১০২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড পল এমিল।
আজ শেখ রাসেলকেও রীতিমতো চাপের মুখেই রেখেছির রেখেছিল জায়ান্ট কিলার খ্যাত রহমতগঞ্জ। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। ম্যাচের ২৫ মিনিটে রহমতগঞ্জের বক্সে রাসেলের ইথিওপিয়ান ফরোয়ার্ড ফিকরুর ক্রস পল এমিল বল রিসিভ করেন। কিন্তু রহমতগঞ্জের রক্ষণের বাধায় বল আবার ফিকরুকে ফেরত দেন পল। ফিকরু প্রতিপক্ষ রক্ষণ ভেঙে গোলরক্ষককে ওয়ানটু ওয়ান পজিশনে পেয়েও শট নেন তার পায়ে।
পরের মিনিটেই আরও একটি সুযোগ পেয়েছিলো শেখ রাসেল। বক্সের বাম প্রান্ত দিয়ে মোনায়েম খান রাজু ক্রস দিয়েছিলেন ফিকরুকে । কিন্তু ফিকরু পা লাগানোর আগেই স্লাইড করে কর্নারের বিনিময়ে দলকে রক্ষা করেন রহমতগঞ্জ অধিনায়ক সাখাওয়াত হোসেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন সাখাওয়াত। তবে বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যাওয়ায় বেঁচে যোয় রহমতগ্ঞ্জ।
৫৯ মিনিটে শেখ রাসেলের আরও একটি সুযোগ নষ্ট করেন ফিকরু। জামাল ভুইয়ার পাসে বক্সে বল পেয়ে দুর্দান্ত শট নিয়েছিলেন তিনি।কিন্তু দুইজন ডিফেন্ডার জান বজি রেখে ব্লক করেন শটটি।
ম্যাচ এক ঘণ্টা পুরো হওয়ার মাথায় সুযোগ এসেছিল রহমতগঞ্জেরও। বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার সোহেল মিয়ার শটটিও ছিল দেখার মতোই। কিন্তু বল বারে লেগে বাইরে চলে যাওয়ায় গোল বঞ্চিত হয়েছে পুরান ঢাকার দলটি।
৮৫ মিনিটে আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন কামাল বাবুর শিষ্যরা। বক্সের খুব কাছ থেকেই সতীর্থকে পাস দিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড সৈয়দ রাশেদ তুর্য। প্রায় ফাঁকা পোস্ট পেয়ে বল নিয়ে পোস্টের কাছে পৌঁছে গিয়েও বল বাইরে মারেন মিডফিল্ডার দিদারুল আলম।
অবশেষে ফল নির্ধারক গোলটি হয় ম্যাচের ১০২ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে শেখ রাসেল। জামাল ভুঁইয়ার কাছ থেকে লম্বা থ্রু পাস পেয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন ক্যামেরুন ফরোয়ার্ড পল এমিল। আগুয়ান গোলরক্ষক সামিউল ইসলাম মাসুমের পাশ দিয়ে প্লেসিং শটে পল বল জড়িয়ে দেন জালে (১-০)। কিন্তু রহমতগঞ্জের খেলোয়াড়-কোচ-কর্মকর্তা সবাই গোলটি অফসাইড হয়েছে বলে রেফারি জালাল উদ্দিনের কাছে তীব্র আপত্তি জানান। কিন্তু রেফারি এটি গোল বলে তার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে রহমতগঞ্জ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এজন্য মিনিট সাতেকের মতো খেলা বন্ধ থাকে। বাকি সময়টায় রহমতগঞ্জ আপ্রাণ চেষ্টা করেও সেই গোল আর শোধ করতে পারেনি। শেষ আটে চলে যায় শেখ রাসেল।
/আরএম/এমআর/







