জুভেন্টাসের মাঠে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে জিতলো রিয়াল মাদ্রিদ। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর জোড়া গোলে জিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ‘গুপ্তঘাতক’ বলেছিলেন জিয়ানলুইজি বুফন। জুভেন্টাসের গোলরক্ষকের কথাকে ফেলনা হতে দিলেন না রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ইতালির বিশ্বকাপ জয়ীকে হতবাক করে দিয়ে দুটি গোল করলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। একটি গোলও করালেন।
ম্যাচ শুরু হতে না হতেই আচমকা রোনালদোর মুখোমুখি হতে হলো বুফনকে। ম্যাচ ঘড়িতে তখন সময় ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড। মার্সেলোর পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে গোলমুখের বেশ সামনে বল বাড়িয়ে দিলেন ইস্কো। রোনালদো ডান পায়ে বল ঠেলে দিলেন সামনে, জুভেন্টাসের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সেটা আটকানোর চেষ্টা করারও সুযোগ পেলেন না। বল ঢুকে গেলো জালে। এই গোলেই টানা ১০টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে গোলের একমাত্র কৃতিত্ব দেখান রোনালদো।
অবশ্য ৬ মিনিটে জুভেন্টাস ভালো সুযোগ পেয়েছিল। পাউলো দিবালার শট গোলপোস্টের সামনে স্লাইড করে মাঠের বাইরে পাঠান সের্হিয়ো রামোস। ১৩ মিনিটে রিয়াল অধিনায়ক দারুণ হেডে আবার রুখে দেন জুভেন্টাসের আরেকটি প্রচেষ্টা। গনসালো হিগুয়েইনের পাস থেকে এবার গোল করতে ব্যর্থ হন বেন্টানকার। প্রথম গোল করে এগিয়ে থাকা রিয়াল যেন নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল এই সময়টা। যার সুযোগ নিয়ে ২৩ মিনিটে আরেকবার দুর্দান্ত আক্রমণ চালায় ইতালিয়ানরা। দিবালার ফ্রিকিক থেকে হিগুয়েইনের জোরালো হেড এবার রুখে দেন রিয়াল গোলরক্ষক কেইলর নাভাস। এই তিনটি সুযোগ নষ্ট করার পর স্বাগতিকরা খেই হারিয়ে ফেলে।
৩৬ মিনিটে রিয়াল সুযোগ পায় ব্যবধান দ্বিগুণ করার। কিন্তু টনি ক্রসের ভাগ্য সহায় হয়নি। জার্মান তারকার বুলেট গতির শট জুভেন্টাসের ক্রসবারে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। দুই মিনিট পর দিবালার কর্নার কিক থেকে সময়মতো হেড না নেওয়ার খেসারত দেন জর্জিও কিয়েল্লিনি।
৪৪ মিনিটে রিয়ালের বক্সে কাসেমিরোর হাতে বল লাগলেও রেফারি জুভেন্টাসের পক্ষে রায় দেননি। বিরতির ঠিক আগে ইচ্ছাকৃত ডাইভ দেওয়ায় দিবালা দেখেন হলুদ কার্ড। এই আর্জেন্টাইন তারকা ৬৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখলে জুভেন্টাস হয়ে যায় ১০ জনের দল।
এর দুই মিনিট আগে দুর্দান্ত ওভারহেড কিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রোনালদো। ৬৪ মিনিটে বক্সের ভেতরে ভাসকেসকে পাস দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্প্যানিশ উইঙ্গারকে ঠেকিয়ে দেন বুফন। বল চলে যায় কারভাহালের কাছে, তার ক্রসে চোখ ধাঁধানো গোল করেন ৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
আক্রমণভাগে একজনকে হারানোয় জুভেন্টাস নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। অন্যদিকে দুই গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া রিয়াল আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। ৭১ মিনিটে বল উঁচুতে মেরে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হারান রোনালদো। অবশ্য পরের মিনিটেই তার সঙ্গে ওয়ান-টু পাসে তৃতীয় গোল করেন মার্সেলো। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দুইবার হ্যাটট্রিকের সুযোগবঞ্চিত হন রোনালদো। ৯০ মিনিটে তার ডান পায়ের শট ঠেকান বুফন। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জুভ গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোলবারের উপর দিয়ে বল মারেন সিআরসেভেন। ৯৩ মিনিটে একটি গোল শোধের সুযোগ পেয়েও নষ্ট করেন জুভেন্টাসরে কুয়াদরাদো।
সেমিফাইনালে এক পা দিয়ে রাখা রিয়ালের জন্য ছোট্ট দুঃসংবাদ, দ্বিতীয় লেগে রামোসকে পাচ্ছে না তারা। ৫৫ মিনিটে দিবালাকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেছেন অধিনায়ক।
গত বছরের মে মাসে কার্ডিফ ফাইনালে হারের প্রতিশোধ তো নিতেই পারলো না জুভেন্টাস, বরং বছরের প্রথম হারের মুখ দেখলো তারা। আর ইউরোপীয় মঞ্চে ঘরের মাঠে এটি তাদের ২৭ ম্যাচে প্রথম হার। এই ম্যাচের আগে তুরিনে এসে ২০১৩ সালে জুভেন্টাসকে হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ।
পিছিয়ে পড়েও বায়ার্নের জয়
সেভিয়ার মাঠে শুরুটা ভালো হয়েছিল না বায়ার্ন মিউনিখের। পিছিয়ে পড়েছিল তারা ৩২ মিনিটে। পাবলো সারাবিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্প্যানিশরা। কিন্তু তাদের উল্লাস বেশিক্ষণ টেকেনি। ৩৭ মিনিটে ফ্রাঙ্ক রিবেরির বল ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন জেসাস নাভাস। ৬৮ মিনিটে রিবেরির পাস থেকে জার্মানদের জয়সূচক গোল করেন থিয়াগো আলকান্তারা। ২-১ গোলের এই জয়ে স্বস্তিতে থেকে অ্যালিয়েঞ্জ এরেনায় সেভিয়াকে দ্বিতীয় লেগে স্বাগত জানাবে বায়ার্ন।







