দরজায় কড়া নাড়ছে বিশ্বকাপ। রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে ফুটবল মহাযজ্ঞের ২১তম আসর। তার আগের প্রতিযোগিতাটিগুলো কেমন ছিল, কারাই বা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল- ফুটবল উৎসবের বানে ভেসে যাওয়ার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক সেখানে-
বিশ্বকাপের অষ্টম আসর বসেছিল ইংল্যান্ডে। ১১ থেকে ৩০ জুলাইয়ের এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয় স্বাগতিকরা। উত্তেজনাকর ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারায় ইংলিশরা। তৃতীয় দল হিসেবে তারা জেতে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ। ইংলিশদের আগে আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিল উরুগুয়ে (১৯৩০) ও ইতালি (১৯৩৪)।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবার ফুটবল মহাযজ্ঞ নেমে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল পর্তুগাল। ইউসেবিও’র জাদুকরী পারফরম্যান্সে তৃতীয় হয়ে শেষ করে তারা ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ। এই বিশ্বকাপ বয়কট করেছিল আফ্রিকানরা। এরপরও বাছাই পর্বে অংশ নিয়েছিল রেকর্ড ৭০ দেশ। যেখানে ইউরোপের ১০ দলের সঙ্গে লাতিন আমেরিকার ৪, এশিয়ার ১, উত্তর ও মধ্য আমেরিকার থেকে অংশ নেয় একটি দল।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক ফাইনাল মঞ্চায়িত হয় এই বিশ্বকাপে। শেষ বাঁশি বাজার আগমুহূর্তে গোল হজম করে ইংলিশদের বিশ্বকাপ স্বপ্নে ধাক্কা লাগলেও অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে স্বাগতিকরাই মাতে বিশ্ব জয়ের আনন্দে।
অন্য চোখে: প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় পর্তুগাল ও উত্তর কোরিয়া। ওয়েম্বলির ফাইনাল দিয়েই শেষ হয় সাদা-কালো যুগের। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে সবশেষ খেলা সম্প্রচার হয়েছিল সাদা-কালোয়।
একনজরে:
আয়োজক: ইংল্যান্ড
মোট দল: ১৬
ভেন্যু: ৮
চ্যাম্পিয়ন: ইংল্যান্ড
রানার্স-আপ: পশ্চিম জার্মানি
মোট ম্যাচ: ৩২
মোট গোল: ৮৯
সর্বোচ্চ গোলদাতা: ইউসেবিও (পর্তুগাল), ৯ গোল।
সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়: ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার (পশ্চিম জার্মানি)।
ফরম্যাট:
১৯৬২ সালের ফরম্যাটেই হয়েছে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে। ১৬ দল চার গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলেছে একে অন্যের সঙ্গে। জয়ের জন্য ছিল ২ পয়েন্ট, আর ড্রতে ১ পয়েন্ট। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দুই দল জায়গা পায় কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপে দুই বা তার বেশি দলের পয়েন্ট সমান হলে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা দল সুবিধা পেয়েছে। নকআউট পর্বে নির্ধারিত সময় ড্রতে শেষ হলে ছিল অতিরিক্ত সময়ের ব্যবস্থা।
গ্রুপ পর্ব:
রবিন রাউন্ড পদ্ধতিতে হওয়া গ্রুপ পর্বে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ হয় যথাক্রমে ‘গ্রুপ-১’ ইংল্যান্ড ও উরুগুয়ে, ‘গ্রুপ-২’ পশ্চিম জার্মানি ও আর্জেন্টিনা, ‘গ্রুপ-৩’ পর্তুগাল ও হাঙ্গেরি, ‘গ্রুপ-৪’ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও উত্তর কোরিয়া।
কোয়ার্টার ফাইনাল:
কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে। পর্তুগাল ৫-৩ গোলে উত্তর কোরিয়াকে, পশ্চিম জার্মানি ৪-০ গোলে উরুগুয়েকে ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ২-১ গোলে হাঙ্গেরিকে হারিয়ে নিশ্চিত করে শেষ চার।
সেমিফাইনাল:
ইউসেবিও’র হ্যাটট্রিকে কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। সেমিফাইনালেও তার দিকে তাকিয়ে ছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পারেননি পর্তুগালের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়। ববি চার্লটনের জোড়া লক্ষ্যভেদে পর্তুগালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংলিশরা নিশ্চিত করে ফাইনাল। অন্য সেমিফাইনালে একই ব্যবধানে পশ্চিম জার্মানি হারায় সেভিয়েত ইউনিয়নকে।
ফাইনাল:
বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাইনাল মঞ্চায়িত হয়েছিল ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে। উত্তেজনার সব রসদ জমা ছিল ৯৬ হাজারের উপরে উপস্থিত হওয়া ফাইনালে। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের শিরোপা উৎসব যখন শুরু হয়ে গেছে, তখনই উলফগাং ওয়েবারের গোলে স্তব্দ ওয়েম্বলি। শেষ বাঁশি বাজার মিনিট খানেক আগে তার লক্ষ্যভেদেই সমতায় ফেরে পশ্চিম জার্মানি।
তবে ফুটবল দেবতা নিরাশ করেননি ইংলিশদের। জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিকে শিরোপা উৎসব করে ইংল্যান্ড। হেলমাট হালেরের গোলে ১২ মিনিটে এগিয়ে গিয়েছিল পশ্চিম জার্মানি। তবে ১৮ মিনিটেই ‘থ্রি লায়ন্স’ সমতায় ফেরে হার্স্টের প্রথম লক্ষ্যভেদে। এরপর ৭৮ মিনিটে মার্টিন পিটার্সের গোলে যখন শিরোপার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল ইংলিশরা, তখনই ওয়েবারের গোলে স্বাগতিকদের মাথায় হাত।
শেষমেষ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে ১০১ ও ১২০ মিনিটে দুই গোল করে হার্স্ট হ্যাটট্রিক পূরণ করলে উত্তেজনাকর ফাইনাল জিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড।








