২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘ই’ গ্রুপের সার্বিয়া নিয়ে-
এক বিশ্বকাপ বিরতি দিয়ে আবার ফুটবল মহাযজ্ঞে ফিরেছে সার্বিয়া। ২০১৪ সালের আসরে বাছাই পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি তারা। তবে এবারের আসরে ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে সরাসরি নিশ্চিত করে মূল পর্ব।
যদিও রাশিয়ার মূল পর্বে কঠিন পরীক্ষার সামনে পড়তে হবে তাদের। ‘ই’ গ্রুপের তাদের প্রতিপক্ষ পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রয়েছে কনকাকাফ অঞ্চলের শক্তি কোস্টারিকা ও ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে দারুণ সময় কাটিয়ে আসা সুইজারল্যান্ড। কঠিন এই গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে যাওয়াই সার্বিয়ার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের।
একনজরে:
অধিনায়ক: আলেকসান্দার কোলারভ
কোচ: ম্লাদেন ক্রেস্তাইচ
ডাকনাম: অরলোভি
র্যাংকিং: ৩৫ (জুন ৭ পর্যন্ত)।
বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১১বার- ১৯৩০, ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭৪, ১৯৮২, ১৯৯০, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১০।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চতুর্থ স্থান- ১৯৩০, ১৯৬২
ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:
ইউরোপিয়ান অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘ডি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে উঠেছে সার্বিয়া। যদিও কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, ওয়েলস ও অস্ট্রিয়ার মতো শক্তিশালী দল নিয়ে সাজানো গ্রুপে। জর্জিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে এসে রাশিয়ার টিকিট পায় তারা ১-০ গোলের জয়ে। অথচ আগের রাউন্ডেই শঙ্কায় পড়ে গিয়েছিল সার্বিয়ার বিশ্বকাপ। অস্ট্রিয়ার মাঠ থেকে ৩-২ গোলের হারের সেই শঙ্কা উড়ে যায় জর্জিয়ার বিপক্ষে জয়ে। বাছাই পর্বের ‘ডি’ গ্রুপে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় সার্বিয়া, দ্বিতীয় স্থানে থাকা আয়ারল্যান্ডের চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে থেকে।
সার্বিয়ার বিশ্বকাপ গ্রুপ:
রাশিয়ার আসরে ‘ই’ গ্রুপে রয়েছে সার্বিয়া। গ্রুপ পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড ও কোস্টারিকা।
সার্বিয়ার বিশ্বকাপ সূচি:
১৭ জুন কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে তাদের। দ্বিতীয় ম্যাচ ২২ জুন, প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। আর ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খেলবে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে।
১৭ জুন: কোস্টারিকা
২২ জুন: সুইজারল্যান্ড
২৭ জুন: ব্রাজিল
নজরে থাকবেন:
নেমাঞ্জা মাতিচ: ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে, তবে নেমাঞ্জা মাতিচ এখন খেলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে দারুণ এক মৌসুম কাটিয়ে নামতে যাচ্ছেন রাশিয়ার ফুটবল মহাযজ্ঞে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণভাগে বল জোগান দিতে তিনি যেমন পারদর্শী, তেমনি রক্ষণে এসেও সাহায্য করতে পারেন দলকে। বিশ্বকাপে সার্বিয়ার রক্ষণ ও আক্রমণভাগে যোগাযোগের সেতু তৈরি করবেন ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।
শক্তি: মাঝমাঠ।
দুর্বলতা: আক্রমণভাগ।
ভবিষ্যদ্বাণী: গ্রুপ পর্ব।
চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ভ্লাদিমির স্তোইকোভিচ, প্রেদ্রাক রাইকোভিচ, মার্কো দিমিত্রোভিচ; ডিফেন্ডার: আন্তোনিও রুকাভিনা, দুস্কো তোসিচ, উরোস স্পাইচ, ব্রানিস্লাভ ইভানোভিচ, আলেকসান্দার কোলারভ, মিলোস ভেলিকোভিচ, মিলান রোদিচ, নিকোলা মিলেনকোভিচ; মিডফিল্ডার: লুকা মিলিভোয়েভিচ, আন্দ্রিয়া জিভকোভিচ, দুসান তাদিচ, মার্কো গ্রুইচ, ফিলিপ কোসতিচ, সের্গেই মিলিনকোভিচ-সাভিচ, নেমাঞ্জা মাতিচ, আদেম লিয়াইক; ফরোয়ার্ড: আলেকসান্দার প্রিয়োভিচ, আলেকসান্দার মিত্রোভিচ, নিমাঞ্জা রাদোনিচ, লুকা ইয়োভিচ।






