ডুয়ান অলিভিয়েরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিন দিনেই সেঞ্চুরিয়ন টেস্ট জিতে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। পাকিস্তানের বিপক্ষে বক্সিং ডে টেস্ট জিততে প্রোটিয়াদের দরকার ছিল ১৪৯ রান। তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যটা টপকে যায় তারা। ৬ উইকেটের এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা।
প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অলিভিয়েরের শিকার ৫ উইকেট। যাতে ১৯০ রানে দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট হয় পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার লক্ষ্য ঠিক হয় ১৪৯ রানের। সহজ এই লক্ষ্য হামিশ আমলা ও ডিন এলগারের হাফসেঞ্চুরিতে টপকে গেছে প্রোটিয়ারা। আমলা অপরাজিত থাকেন ৬৩ রানে, আর এলগারের ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান।
দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তান অলআউট হওয়ার পর শেষ হয়ে যায় দিনের খেলা। তৃতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নামা প্রোটিয়ারা শুরুতেই খায় ধাক্কা। হাসান আলীর বলে এইডেন মারক্রাম রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পাকিস্তান। কিন্তু তাদের সেই উৎসব হতাশায় রূপ নেয় এলগার-আমলার চমৎকার ব্যাটিংয়ে। শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানো দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১১৯ রান তুলে পেতে থাকে জয়ের সুবাস।
ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে আমলা-এলগার দুজনই পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পূরণ করা এলগার ৫০ রান করে গড়ে যান জয়ের ভিত। শান মাসুদের বলে সরফরাজ আহমেদের গ্ল্যাভসবন্দি হওয়ার আগে ১২৩ বলের ইনিংসটি এই ওপেনার সাজান ১০ বাউন্ডারিতে।
এলগার আউট হলেও জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন আমলা। মাঝে থিউনিস ডি ব্রুইন (১০) ও ফাফ দু প্লেসি (০) দ্রুত ফিরে গেলেও তেম্বা বাভুমাকে (১৩*) নিয়ে বাকি কাজটুকু সেরেছেন ৬৩ রান করা আমলা। ওয়ান ডাউনে নেমে ১৪৮ বলের হার না মানা ইনিংসটি আমলা সাজান ১১ বাউন্ডারিতে।
প্রথম ইনিংসে আলো ছড়ালেও ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি পাকিস্তানি বোলাররা। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হাসান আলী, শাহীন আফ্রিদি, ইয়াসির শাহ ও শান মাসুদ। ম্যাচসেরা হয়েছেন ১১ উইকেট পাওয়া প্রোটিয়া পেসার অলিভিয়ের। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ১৮১ ও ১৯০।
দক্ষিণ আফ্রিকা: ২২৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০.৪ ওভারে ১৫১/৪ (আমলা ৬৩*, এলগার ৫০, বাভুমা ১৩*, ডি ব্রুইন ১০; শান মাসুদ ১/৬, ইয়াসির শাহ ১/২০)।
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা ১-০তে এগিয়ে।
ম্যাচসেরা: ডুয়ান অলিভিয়ের।







