ইতালিয়ান ফুটবলে জুভেন্টাসের সাফল্য ঈর্ষণীয়। সিরি-আ’র রেকর্ড ৩৫ বারের চ্যাম্পিয়ন (১৮ শিরোপা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ইন্টার ও এসি মিলান), গত ৮ মৌসুমের শিরোপাজয়ী। তবে ‘ট্রিপল’ হ্যাটট্রিকের সৌরভে আচ্ছন্ন জুভেন্টাসের সামনে এবার ইন্টার মিলানের চ্যালেঞ্জ। দুই দলের ৪৫ পয়েন্ট হলেও গোল গড়ে এগিয়ে শীর্ষে আছে ইন্টার।
আন্তোনিও কন্তের দলের সাফল্যের রহস্য কী? অনেকের মতে, রোমেলু লুকাকুর গোলের খিদেই ইন্টারকে এগিয়ে দিয়েছে সাফল্যের পথে। সিরি-আতে ১৮ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এই বেলজিয়ান স্ট্রাইকার। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও ১৩ গোল নিয়ে তার পেছনে। শীর্ষে থাকা চিরো ইমমোবিলের গোল ১৯টি।
অথচ গত আগস্টে ক্লাব রেকর্ড ৮ কোটি ইউরোতে লুকাকুকে নিয়ে আসার পর কম সমালোচনা সইতে হয়নি কন্তেকে। সমালোচকদের অবশ্য দোষ দেওয়া যায় না। আগের মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে তেমন ভালো খেলতে পারেননি লুকাকু। প্রিমিয়ার লিগে ১২টিসহ পুরো মৌসুমে গোল করেন ১৫টি।
তবু ২৬ বছর বয়সী লুকাকুর ওপর আস্থা রেখেছেন কন্তে। বহুদিন ধরেই তাকে দলে নিতে চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু পারছিলেন না। ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত জুভেন্টাসের কোচ থাকার সময় আনতে চাইলেও পারেননি। ২০১৬তে চেলসির কোচ হওয়ার পর লুকাকু-মিশনে ব্যর্থ হন আবার। গত মে মাসে ইন্টারের দায়িত্ব নিয়ে আর দেরি করেননি কন্তে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ড থেকে নিয়ে এসেছেন প্রিয় ‘নাম্বার নাইন’কে। কয়েকদিন আগে নিজেই বলেছেন, ‘চেলসিতে এমনকি জুভেন্টাসে থাকতেও রোমেলুকে দলে নিতে অনেক চেষ্টা করেছি। আমি সবসময় বলি রোমেলু হলো একটি অমসৃণ হীরা যা মসৃণ করা প্রয়োজন। এখন হীরাটা ঘষামাজা করার সুযোগ পেয়েছি।’
কন্তের ছোঁয়ায় হীরার মতোই উজ্জ্বল লুকাকু। গোল করছেন, করাচ্ছেন। লুকাকু-লাউতারো মার্তিনেজ জুটি সিরি-আতে ২৩টি গোল এনে দিয়েছে ইন্টারকে। কন্তের দলও তাই ছুটছে শিরোপার পথে।







