বাবার কাছে বাংলাদেশের গল্প শুনে বড় হয়েছেন কাজী তারিক রায়হান। ফিনল্যান্ডের চারটি বয়সভিত্তিক দলে খেললেও মন পড়েছিল তার বাংলাদেশে; স্বপ্ন ছিল, একসময় লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠ মাতাবেন। শেষ পর্যন্ত তার স্বপ্ন সত্যি হওয়ার পথে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ দলের ৩৬ জনের প্রাথমিক তালিকায় তারিকের নাম চলে এসেছে। প্রাথমিক দলে জায়গা করে নিয়ে স্বপ্নপূরণের প্রথম ধাপ পাড়ি দিতে পেরে ভীষণ আনন্দিত তরুণ এই ডিফেন্ডার।
প্রাথমিক স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার একদিন পর আজ (সোমবার) নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশ দলের নতুন সদস্য বলেছেন, ‘এই প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি। অবশ্যই আমি খুশি। আমার স্বপ্ন অবশেষে স্বার্থক হতে চলেছে। জাতীয় দলের হয়ে অনুশীলন করবো। সেখানে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে। আমার আসলেই অনেক ভালো লাগছে।’
চূড়ান্ত দলে জায়গা করে নেওয়াই এখন তারিকের লক্ষ্য, ‘অবশ্যই আমি আত্মবিশ্বাসী ফাইনাল স্কোয়াডে জায়গা পাবো। এজন্য আমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। অনুশীলনে ভালো করেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।’
ফিনল্যান্ডের হয়ে চারটি বয়সভিত্তিক দলে খেলা তারিকের হৃদয়ে সবসময় বাংলাদেশ, ‘আমি ফিনল্যান্ডের ১৬, ১৭, ১৮ ও ১৯ বয়সভিত্তিক দলে খেলেছি। আমার বাংলাদেশকে পছন্দ করার অন্যতম কারণ হলো, আমার হৃদয় বলেছে এই দেশটির হয়ে খেলতে।’
বাবা শহীদুল কাজী ১৯৮০’র দশকে ফিনল্যান্ড প্রবাসী হন। মা ফিনিশ, নাম আনু পিলয়া। চার ভাই-বোনের মধ্যে তারিক দ্বিতীয়। তার বাবার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ। সেই সূত্রে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে তার গভীর টান। বাবাই চাইতেন ছেলে যেন বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে।
তারিক জানালেন, ‘আমার পূর্ব পুরুষের বিষয় তো আছেই। আমার তো সেখানে পুরোনো শিকড় আছে। এছাড়া আমার রক্তে মিশে আছে বাংলাদেশ। আমার বাবা এই দেশে অনেকবারই ঘুরে গেছে। এখানে আমার অনেক আত্মীয়-স্বজনও আছে।’
বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ঢাকার মাঠে এই মৌসুমে অভিষেক হয়েছে তারিকের। ঘরোয়া ফুটবলের মান নিয়েও প্রশংসা ঝরলো তার কণ্ঠে, ‘প্রিমিয়ার লিগে খেলছি। এখানকার লিগ উন্নতমানের। স্থানীয় ফুটবলারদের পাশাপাশি বিদেশিদের মানও ভালো। চার-পাঁচ দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে থাকে। এর মধ্যে বসুন্ধরা ভালো দল। সবকিছু তাদের উন্নতমানের। এখানকার লোকজনও ভালো। এই পর্যন্ত আসার পেছনে সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’







