অধিনায়ক চার্লস দিদিয়েরের ওপর প্রত্যাশা ছিল বেশি, চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সিতে আগের মতোই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাবেন এই মিডফিল্ডার। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি জ্বলে উঠতে পারলেন কই? বরং একপর্যায়ে লাল কার্ড দেখে দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে যান এই আফ্রিকান। দুই অর্ধে ৩ গোল খেয়ে ফেডারেশন কাপ থেকে ছিটকে গেছে বন্দরনগরীর দলটি। ১০ জনের আবাহনীকে ৩-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাইফ স্পোর্টিং পেয়েছে ফাইনালের টিকিট।
এই ম্যাচের আড়ালে দুই কোচের মগজাস্ত্রেরও লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাতে অবশ্য জয় হয়েছে সাইফের বেলজিয়ান কোচ পল পুটের দল। বাংলাদেশের কোচ মারুফুল হকের চট্টগ্রাম আবাহনী মাঠের লড়াইয়ে হেরে গেছে।
প্রথম সেমিফাইনালে আগের সেই লড়াকু আবাহনীকে দেখা যায়নি। সাইফের সঙ্গে যদিও তারা সাধ্যমতো খেলেছে। কিন্তু গোলের সুযোগ সেভাবে তৈরি করতে পারেনি। সাইফ যেমন আক্রমণ গড়েছে তেমনি গোলও পেয়েছে।
ম্যাচের ৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম এগিয়ে যায় সাইফ। এর দায় নিতে হবে চট্টগ্রাম আবাহনীর অধিনায়ক দিদিয়েরকে। উজবেকিস্তানের সিরোজউদ্দিনের ফ্রি কিক থেকে আসা বল দিদিয়ের বক্সের ভেতর ক্লিয়ার করতে পারেননি। নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার এমানুয়েল আরিওচুকু দুরূহ কোণ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো ভলিতে জাল কাঁপান। গোলকিপার মোহাম্মদ নাঈমও কিছু করতে পারেননি।
২১ মিনিটে সিরোজউদ্দিনের জোরালো শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে গেলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি। এক গোলে পিছিয়ে থেকে আবাহনী উইং দিয়ে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছে। ২৯ মিনিটে সুযোগ পায় তারা। মোনায়েম রাজুর পাস থেকে রাগিব হোসেন বক্সে ঢুকে শট নিলেও তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়।
বিরতির পরও চট্টগ্রাম আবাহনী সেভাবে আক্রমণ শানতে পারেনি। বরং মাঠে সাবলীল পারফরম্যান্স ছিল সাইফের।৭১ মিনিটে দ্বিতীয় গোল আসে তাদের। ডান প্রান্ত থেকে আরিফুরের চিপ থেকে নাইজেরিয়ান ইকেচুকু কেনেথ তা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডান পায়ের সাইড ভলিতে করেন ২-০।
৭৬ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনী ১০ জনের দলে পরিণত হয়, যখন দিদিয়ের লাল কার্ড দেখেন। মাঝমাঠে আল আমিনকে ফেলে দেন চট্টগ্রাম আবাহনী অধিনায়ক। রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদের সঙ্গে দেখান লাল কার্ড। আর ফাউলের শিকার আল আমিনকে নিতে হয় হাসপাতালে।
১০ জনের দল নিয়েও চট্টগ্রাম আবাহনী ৭৯ মিনিটে ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু রাগিব হোসেনের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হতাশা আরও বাড়ে।
শেষ মিনিটে সাইফ তৃতীয় গোল করে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ফেডারেশন কাপ থেকে ছিটকে দেয়। ডিফেন্ডার ইয়াছিন আরাফাত দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে ক্লিনিক্যাল ফিনিশ করেন।








