প্রথমবারের মতো সাইফ স্পোর্টিং খেলছে ফেডারেশন কাপের ফাইনাল, কিন্তু নেই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার আল আমিন। ওই সময় হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর ছিলেন এই মিডফিল্ডার। আগামীকাল (বুধবার) শুরু হতে যাওয়া প্রিমিয়ার লিগ ফুটবলেও অনিশ্চিত আল আমিন। কবে আবার মাঠে ফিরতে পারবেন তাও জানেন না। সহসাই যে ফেরা কঠিন, তা অবশ্য বুঝে গেছেন।
খেলার মাঠের দুর্ঘটনা তার জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এখন বিছানায় শুয়ে শুধুই দিন গণনা করছেন। আর স্বপ্ন দেখছেন, আবারও কোনও একসময় ফিরবেন সবুজ ঘাসের খেলার মাঠে। যার কারণে তার এই অবস্থা, আরও স্পষ্ট করলে যার ফাউলে মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন আল আমিন, সেই চার্লস দিদিয়েরকে অবশ্য ক্ষমা করে দিয়েছেন সাইফ মিডফিল্ডার।
ফেডারেশন কাপ ফুটবলের সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েও বেশিক্ষণ খেলতে পারেননি আল আমিন। বদলি নামার পরই অঘটনের শিকার হন। ৭৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের আইভরি কোস্টের মিডফিল্ডার দিদিয়েরের আঘাতে ডান পা (শিন বোন) ভেঙে যায় তার। দ্রুত নেওয়া হয় হাসপাতালে।
পরের দিন হয় তার অস্ত্রোপচার। এখন আল আমিন ক্লাবে ফিরে গেছেন। সেখানেই তার সেরে ওঠার কাজ চলছে। হাসপাতালে থাকতেই দিদিয়ের তাকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে অনেকটাই নিস্তব্ধ হয়ে পড়েন এই আফ্রিকান। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ক্ষমাও চেয়েছেন। আর আল আমিনও বিষয়টি দেখছেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে। পায়ে আঘাতকারী দিদিয়েরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তিনি।
দিদিয়েরের প্রসঙ্গে আল আমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে দিদিয়ের হয়তো ইচ্ছা করে আঘাত করেনি। আর করলেও সেটা আমি ক্ষমাসুন্দর ভাবে নিয়েছি। এখন আমার ভাগ্য ভালো ছিল না। তাই তার আঘাতে আমার পা-ই ভেঙে গেছে। দিদিয়ের আমাকে দেখতে এসেছিল। ক্ষমা চেয়েছে। আমিও তার ওপর কোনও রাগ বা ক্ষোভ রাখিনি। তাকে সেটা বলেও দিয়েছি। মাঠে খেলতে গেলে তো অনেক কিছুই হতে পারে।’
দিদিয়ের অবশ্য মাঠেই সেই সময়ে আল আমিনের পায়ের অবস্থা দেখে মাথায় দুই হাত মুড়িয়ে অনেকক্ষণ বসে ছিলেন। ছিলেন অনুতপ্ত। এছাড়া ফেসবুক বার্তায় অনুতপ্ত হয়ে দুঃখপ্রকাশও করেছেন।
সাইফের শুরু থেকেই আল আমিন আছেন। খেলেছেন জাতীয় পর্যায়ে বয়সভিত্তিক দলে। বিছানায় শুয়ে ২২ বছর বয়সী আল আমিন দলের ফাইনাল দেখেছেন। দল ট্রফি জিততে পারলে নিজের কাছেই অনেক ভালো লাগতো তার। তারপরও ফাইনালে ওঠা তো কম কথা নয়।
আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া লিগে খেলতে পারছেন না। কবে মাঠে ফিরতে পারবেন তাও অজানা এই মিডফিল্ডারের, ‘আপাতত ডাক্তার পর্যবেক্ষণে রেখেছে। অস্ত্রোপচারের পর আগের চেয়ে ভালো অনুভব করছি। তবে ডাক্তার বলেছে, ভবিষ্যতে আমি খেলতে পারবো। তবে বেশ সময় লাগবে। আমিও সেই আশায় আছি। একসময় হয়তো মাঠে আবারও নামতে পারবো।’
সাইফে আল আমিনের সতীর্থরাও তার দ্রুত সুস্থতা চাইছেন। ফেডারেশন কাপের ফাইনালের আগে তারা জানিয়েছিলেন, জিততে পারলে ট্রফিটা আল আমিনকে উৎসর্গ করবেন। তবে সাইফ শিরোপা জিততে না পারলেও আল আমিনের জার্সি গায়ে রানার্স-আপ ট্রফি নিয়ে ইয়াছিন আরাফাতরা তাকে ঠিকই স্মরণ করেছেন!









