স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স তখন দুই-তিন বছর। কাজী সালাউদ্দিন যাচ্ছিলেন ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে। যাওয়ার পথে বড় ঝামেলায় পড়েছিলেন বর্তমানে বাফুফে সভাপতির দায়িত্ব সামলানো ফুটবল কিংবদন্তি। বাংলাদেশের পাসপোর্ট দেখে ইমিগ্রেশনের কর্তাব্যক্তিরা চিনতেই পারছিলেন না! ভাবছেন এত বছর পর হঠাৎ সেই ঘটনা সামনে এলো কেন? আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী, বিশেষ এই দিনে জাতির পিতার প্রভাব বোঝাতে গিয়ে কোপেনহেগেনের ঘটনা সামনে এনেছেন সালাউদ্দিন। সেদিন ইমিগ্রেশন কর্তা বাংলাদেশকে না চিনলেও ঠিকই চিনেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানকে।
বাফুফেতে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন নানা আয়োজনে উদযাপন করা হচ্ছে। সেই আয়োজনের এক পর্বে কোপেনহেগেনের গল্পটা শুনিয়েছেন সালাউদ্দিন। যেদিন শেখ মুজিবুর রহমান নামটি পার করিয়েছিল তার ইমিগ্রেশনের বাধা। বাফুফে সভাপতি গল্পের শুরুটা করলেন এভাবে, ‘বঙ্গবন্ধু এই দেশের জন্য কী, তার একটা ঘটনা বলি। ১৯৭৩-৭৪ সালে আমি যাচ্ছিলাম কোপেনহেগেনে। ট্রেনে করে। জার্মান বর্ডার ক্রস করে যখন কোপেনহেগেনে যাই, ইমিগ্রেশন অফিসারকে পাসপোর্ট দিলাম, তখন সে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল। পাসপোর্ট দেখে পাতা ওল্টাচ্ছিল, ঘুরাচ্ছিল। আর বলছিল, ‘বাংলাদেশ? কোথায়, কীভাবে?’। তিনি কিছুই চিনতে পারছিলেন না। পারলে আমাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়!’
এরপর কী ঘটেছিল? একটু দম নিয়ে দেশের ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি বলতে শুরু করলেন, “আমার উল্টো দিকে একজন ডাচ ভদ্রলোক বসা ছিলেন। সে ম্যাগাজিন পড়ছিল এবং আমাদের এই অবস্থা দেখে বললো, ‘আর ইউ ফ্রম শেখ মুজিবুর রহমান’স কান্ট্রি?’ আমি বললাম, ‘ইয়েস, ইয়েস’। তখন ইমিগ্রেশন অফিসার বললেন, ‘আই নো শেখ মুজিবুর রহমান, আই নো শেখ মুজিবুর রহমান’। দ্যাট ইজ আমাদের লিডার।”
বঙ্গবন্ধুর নাম শুনে দ্রুত মুক্তিও মেলে সালাউদ্দিনের। সেই দৃশ্য এখনও ভাসে বাফুফে প্রধানের চোখে, ‘সঙ্গে সঙ্গে আমার পাসপোর্টে সিল দিয়ে দেন সেই কর্মকর্তা। আজ ৪০-৪৫ বছর পর সেই ঘটনা আমার চোখের সামনে ভাসছে। আসলে আমার সেই সিলটা বাংলাদেশের নামে আসেনি, এসেছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।’
স্বাধীন বাংলাদেশে সালাউদ্দিন ফুটবলের বড় তারকা। বাফুফে ও সাফের সভাপতি হিসেবে আছেন অনেকদিন। এই সবকিছুর জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করলেন সাবেক এই স্ট্রাইকার, ‘আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। এই দেশ স্বাধীন হওয়ার একটাই কারণ হলো বঙ্গবন্ধু। আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে আমরা যে কথা বলতে পারছি, এটা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই হয়েছে। এজন্য আমরা তার শতজন্মবার্ষিকী উদযাপন করছি। আমরা আনন্দবোধ করছি যে, ওনার জন্য আমরা আজকে এখানে, কেউ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, কেউ সংসদ সদস্য। সবই বঙ্গবন্ধুর জন্য।’
বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সঙ্গে রয়েছে সালাউদ্দিনের নিবিড় সম্পর্ক। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পুরনো সময়ে ডুব দিলেন তিনি, ‘এটা আমার জন্য বাড়তি অনুভূতি। কারণ হলো আমার সৌভাগ্য যে, আমি উনাকে চিনতাম। তার সঙ্গে কয়েকবার খাওয়ারও সুযোগ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধুর ভাই, তার ছেলে-মেয়ে, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- সবাইকে তখন থেকে চিনি। এটা আমার সৌভাগ্য। আমার আরও সৌভাগ্য যে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে তার জন্মশতবার্ষিকী খেলোয়াড়দের নিয়ে পালন করতে পারছি।’
বঙ্গবন্ধুর ক্রীড়াপ্রেম সম্পর্কে সবাই অবগত। সালাউদ্দিনের ভাষায়, ‘আপনাদের একটা কথা বলতে চাই, তিনি স্পোর্টসম্যান ছিলেন, তার ছেলেসহ সবাই স্পোর্টসম্যান ছিলেন, যেটা উনাদের রক্তে আছে।’









