দিন যায়। বছরের পর বছর কেটে যায়। কিন্তু আর্জেন্টিনার দুঃখ ফুরায় না! সেই ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা জয়ে এসেছিল সবশেষ কোনও সাফল্য, এরপর থেকে শুধুই হাহাকারের অধ্যায়। বেশ কয়েকবার শিরোপা হাতছাড়া দূরত্বে থাকলেও ছুঁয়ে দেখা হয়নি। অতীতের দায় মেটাতে এবারের কোপা আমেরিকা দিয়ে শিরোপা দুঃখ ঘোচানোর স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা। যাকে ঘিরে স্বপ্ন, সেই লিওনেল মেসিরও মনের গহীনে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষা।
টানা তিন বছর ট্রফির খুব কাছে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের পর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেললেও রানার্স-আপ হওয়ায় হতাশায় পুড়তে হয়েছে তাদের। আর এই তিনবারই মাথা নিচু করে থাকা মেসির ছবি শিল হয়ে বিঁধেছে তার ভক্তদের হৃদয়ে। অতীতের ওই দৃশ্যগুলোই হয়তো এবারের কোপা আমেরিকার আগে অতি উল্লাসে ফেটে পড়তে দেখা যায়নি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের। দল থেকেও শিরোপা জেতার বাসনা খুব করে বলতে শোনা যায়নি।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে মেসি নিজেও স্পষ্ট করে কিছু জানাননি। শুধু বলেছিলেন, ভালো খেললে সুযোগ থাকবে। তবে আজ (রবিবার) ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পর মেসি বুঝিয়ে দিয়েছেন, শিরোপা জেতার জন্যই তারা নেমেছেন এবারের কোপা আমেরিকায়। স্পষ্ট করে কিছূ না বললেও মেসি জানিয়েছেন, ব্রাজিলের মাঠে চলা প্রতিযোগিতায় একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছেন তিনি ও আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনাল নিশ্চিতের পথে মেসি নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন অন্য দুটি। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে আছেন ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। তবে মেসি ব্যক্তিগত অর্জনকে একপাশে রেখে নিজের লক্ষ্যের কথা শুনিয়েছেন এই বলে, ‘আমি সবসময় বলি, ব্যক্তিগত পুরস্কার দ্বিতীয় বিষয়, আমরা এখানে (ব্রাজিলে) এসেছি অন্য কিছুর জন্য। আমি এই গ্রুপটাকে ধন্যবাদ দিতে চাই অসাধারণ কাজের জন্য। বেশ অনেকদিন হয়ে গেছে আমরা আমাদের পরিবারকে ছাড়া।’
কথাটা শেষ করে মেসি জানিয়ে রাখলেন, ‘আমাদের এখানে আসার একটা উদ্দেশ্য আছে। আমরা সেটা নিয়েই শুধু ভাবছি।’ কী সেই উদ্দেশ্য? মেসি না বললেও বুঝতে অসুবিধা হয় না শিরোপা জিতে অতীতের দায় শোধ করতেই ব্রাজিলের কোপায় নেমেছে আর্জেন্টিনা।









