অনেক আশা নিয়ে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে এসেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনটা মোটেও সুখকর ছিল না। নিজ মুখে না বললেও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা যাচ্ছিলো, ঠিকমতো বনিবনা হচ্ছে না তার। এতদিন রোনালদোও মুখ ফুটে কিছু বলেননি। দল-বদলে ব্যর্থ হওয়ার পর আগস্টে একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে তার জীবন কেমন চলছে, সেটা তুলে ধরবেন। শেষ পর্যন্ত কাতার বিশ্বকাপের আগে টকটিভির সাক্ষাৎকারে সত্যটা স্বীকার করেছেন- ইংলিশ ক্লাবটিতে মোটেও ভালো নেই তিনি। তার মনে হয়েছে, ম্যানইউতে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছেন।
ম্যানইউ কোচ টেন হাগের সঙ্গেও মনোমালিন্যর বিষয়টা অনেক দিন ধরে চলছে রোনালদোর। গত মাসে টটেনহামের বিপক্ষে বদলি হয়ে নামতে বলায় রাজি হননি। যার শাস্তি স্বরূপ গত মাসে চেলসির বিপক্ষে দলে জায়গায়ও হয়নি। গত ৬ নভেম্বর দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের পর তো রহস্যজনক অসুস্থতায় আর খেলতে দেখা যায়নি।
পিয়ের্স মরগানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যখন রোনালদোকে প্রশ্ন করা হলো ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাকে বিদায় দিতে চায় কিনা, জবাবে তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, শুধু কোচ টেন হাগ নন। ক্লাবের আরও দুই-তিনজন কর্মকর্তাও এমনটা চায়। মনে হচ্ছে, আমি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছি।’
সেই কর্মকর্তাদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট করে জানতে চাইলে রোনালদো বলেছেন, ‘আমি এসব পাত্তা দেই না। মানুষের সত্যটা জানা দরকার। হ্যাঁ, আমি অবশ্যই বিশ্বাস ঘাতকতার শিকার হয়েছি। আমার মনে হয়েছে বেশ কয়েকজন চায় না এখানে থাকি। শুধু এই বছর নয়, গত বছরও এমনটা চেয়েছে।’
বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতে দুই পর্বে সাক্ষাৎরটি প্রচার হবে। যার ব্যপ্তি ৯০ মিনিটের মতো। তবে মরগান সেই সাক্ষাৎকারের একটা লিখিত সংস্করণ তুলে ধরেছেন ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান পত্রিকায়। সেখানে রোনালদো বলেছেন, তিনি ক্লাবের স্বার্থেই কাজ করতে চেয়েছেন, ‘আমি ক্লাবের স্বার্থটা দেখতে চেয়েছি। কিন্তু স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যাওয়ার পর ক্লাবের কোনও উন্নতি হয়নি। পরিবর্তনও হয়নি কিছুর।’
টেন হাগের সঙ্গে রোনালদোর সম্পর্কটাও যে ভালো নয়, তার প্রমাণ মেলে এই কথাতেই, ‘কোচের জন্য আমার কোনও সম্মান নেই। কারণ, তিনিও আমাকে সেরকম দৃষ্টিতে দেখেন না। আর আমার জন্য কারো সম্মান না থাকলে আমিও তাকে সম্মানের চোখে দেখি না।’









