বিশ্বকাপে এখনও অক্ষত আছে একটি রেকর্ড। উদ্বোধনী ম্যাচে কখনও হারার রেকর্ড নেই স্বাগতিক দলের। এই তথ্য যে কাতারকে নির্ভার রাখতে পারছে এমনও ভাবা যাচ্ছে না। অনেকে মনে করেন, ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক কাতার তিনটি ম্যাচেই হারবে। একই গ্রুপে সবচেয়ে শক্তিশালী দুই প্রতিপক্ষ আসলে সেনেগাল ও নেদারল্যান্ড। তাদের বিবেচনায় নিলে ইকুয়েডর অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। তাই শুরুর ম্যাচে পয়েন্ট অর্জনের দিকে লক্ষ্য স্বাগতিকদের। ম্যাচ শুরু হবে রাত ১০টায়। সম্প্রচার করবে টি-স্পোর্টস।
বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে নামা কাতার আর ইকুয়েডরের র্যাঙ্কিংয়ের পার্থক্য বেশি নয়। কাতারের অবস্থান ৫০ আর ইকুয়েডরের ৪৪। আবার সঙ্গী আছে বিতর্কও। স্বাগতিক কাতার যেমন সমকামী বিদ্বেষসহ মানবাধিকার ইস্যুতে সমালোচিত। ঠিক তেমনি বাছাই পর্বে অযোগ্য খেলোয়াড় নামিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে পারা নিয়েই শঙ্কার মাঝে পড়ে গিয়েছিল।
এখন বিতর্ক পেছনে ফেলে জমজমাট শুরুর অপেক্ষায় দুই দল। কাতারের প্রেরণার উৎস হতে পারে ২০১৯ সালের এশিয়ান কাপ। যার চ্যাম্পিয়ন তারা। শক্তি-সামর্থ্যে কাতার দলের কোচ ফেলিক্স সানচেজ ভালো করেই জানেন, বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য হয়তো তাদের নেই। তাই বলে একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো দলও তারা নন। জাদুকরী কিছু যে ঘটতেও পারে সেটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন তিনি, ‘আমি বলছি না কাতার বিশ্বকাপ জিতবে। তবে এই তিন দলের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। এটা ফুটবল, আপনি কখনই জানবেন না কী ঘটতে যাচ্ছে।’
তিনি আরও যোগ করে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তের জন্য আমরা অধীর অপেক্ষা করে আছি। ভালো করেই জানি আমরা কারা, কোথা থেকে এসেছি এবং কাদের মুখোমুখি হচ্ছি।’
কাতার ও ইকুয়েডর এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে। হেড টু হেড রেকর্ডে দুই দলেরই একটি করে জয়, একটি করে ড্র ও একটি পরাজয়। শেষবারের ম্যাচেও কাতার ৪-৩ গোলে জিতেছিল। তবে বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে ইকুয়েডর এগিয়ে আছে অনেক। তারা চতুর্থবার টুর্নামেন্টটি খেলতে এসেছে। কাতারের এবারই প্রথম। তাই ম্যাচের ফেভারিট ইকুয়েডরই। কাতারিদের চেয়ে পরিচিত ফুটবলারও তাদের অনেক। প্রিমিয়ার লিগে খেলেন মিডফিল্ডার ময়সেস কাইসেদো, আছেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার এনার ভ্যালেন্সিয়া। পরিসংখ্যান বাদ দিয়ে ভ্যালেন্সিয়া তাই বিশ্বাস রাখতে বললেন ভক্তদের, ‘আমাদের ওপর বিশ্বাস রাখুন। পুরো জাতিকে আনন্দ দিতে যতটা সম্ভব কঠোর পরিশ্রম করছি।’









