একে একে বিদায় নিয়েছে ৫টি দল। আজ (বৃহস্পতিবার) ফাইনালের মহারণ। বিপিএলের নবম আসরের শিরোপা লড়াইয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় মাঠে নামবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও সিলেট স্ট্রাইকার্স। সিলেট প্রথমবার ফাইনালে উঠলেও কুমিল্লা চতুর্থবারের মতো ফাইনাল খেলছে। সর্বশেষ তিনবারই শিরোপা জিতেছে ভিক্টোরিয়ান্সরা।
বিপিএলের নবম আসরের ফাইনাল যেই জিতুক না কেন, মিরপুরে ইতিহাস রচনা করবে। দুই দলেরই আছে অভিন্ন কিছু পরিসংখ্যান। বিপিএলের ফাইনালে অধিনায়ক মাশরাফি কখনও হারেননি। আগের চারবার ফাইনাল খেলে সবকটিই জিতেছেন বাংলাদেশের সফল এই অধিনায়ক। অন্যদিকে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েসেরও ফাইনালে হারের অভিজ্ঞতা নেই। এমন অভিন্ন পরিসংখ্যানে ছেদ পড়তে যাচ্ছে আজ। যেই জিতুক, মিরপুরে পরিসংখ্যান ওলট-পালট ঠিকই হচ্ছে।
সিলেট স্ট্রাইকার্স চ্যাম্পিয়ন হলে অধিনায়ক হিসেবে পাঁচবারের মতো ট্রফি উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পাবেন মাশরাফি। এর আগে ঢাকা, কুমিল্লা ও রংপুরকে চ্যাম্পিয়ন করানোর দুর্লভ কীর্তি আছে তার। ২০১২ ও ২০১৩ সালের প্রথম দুই আসরে ঢাকাকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন। পরেরবার মাশরাফির অধিনায়কত্বে শিরোপা জেতে কুমিল্লাও। ২০১৭ সালে রংপুরের অধিনায়ক হিসেবে শেষবার ট্রফি জিতেছেন। এবার সিলেটের হয়ে ট্রফি জিতলে অধিনায়ক মাশরাফির ট্রফি দাঁড়াবে পাঁচটি।
অন্যদিকে কুমিল্লা শিরোপা জিতলে অধিনায়ক হিসেবে ইমরুল তৃতীয় শিরোপা ছোঁয়ার স্বাদ নিবেন। মাশরাফির পর যা সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। ইমরুলের নেতৃত্বেই কুমিল্লা ২০১৮ ও ২০২২ এর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এর বাইরে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের রেকর্ডও অক্ষুণ্ন থাকবে। ২০১৫, ২০১৮ ও ২০২২ সালে কুমিল্লার চ্যাম্পিয়ন কোচ ছিলেন সালাউদ্দিন। এবার তার সামনে চতুর্থ শিরোপা জয়ের হাতছানি।
ইমরুলের ফাইনালে হারের রেকর্ড নেই, রেকর্ড নেই মাশরাফিরও। তবে ফাইনালে আজ একজনকে হারতেই হবে। কুমিল্লা ২০২২ সালে তৃতীয় শিরোপা জিতে ঢাকাকে ছাড়িয়ে গেছে। এবার জিতলে পারলে নিজেদের নিয়ে যাবে অন্য উচ্চতায়। সিলেটের সামনে সুযোগ পুরনো ব্যর্থতা ভুলে সিলেটবাসীকে প্রথম শিরোপা উপহার দেওয়ার। নেতৃত্বে মাশরাফি বলেই সিলেটবাসী এমন স্বপ্ন দেখছে।
দুই দলের মহারণে শক্তিমত্তায় অনেকখানি এগিয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্লে-অফ থেকে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন মঈন আলী, আন্দ্রে রাসেল ও সুনীল নারিন। বিদেশি এই তিন ক্রিকেটারকে নিয়ে দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল কুমিল্লা। সেই তুলনায় সিলেট শক্তিমত্তায় কিছুটা পিছিয়ে। দলের প্রাণভোমরা হয়ে ছিলেন মোহাম্মদ আমির ও ইমাদ ওয়াসিম। তারা চলে যাওয়ার পর বেশ ভুগতে হয়েছে তাদের। মঙ্গলবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে বহু কষ্টে জিতেছে।
যদিও ফাইনাল ম্যাচে নিজেদের পরিকল্পনার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেলো নাজমুল হোসেন শান্তকে। এর আগে শেষ দুটি বিপিএলেই ফাইনাল খেলেছিলেন তিনি। দুটিতেই পরাজয়ে তার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। এবার আক্ষেপ মেটাতে চান সিলেটের এই ব্যাটার, ‘গত দুটো বিপিএল ফাইনাল হেরেছি। মনে হয় আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তার আরেকটা সুযোগ এই ম্যাচ। আশা থাকবে যে, আমরা যেন ভালো ক্রিকেট খেলে ম্যাচ জিততে পারি। এটাই মূল লক্ষ্য।’
শুরুর ব্যর্থতা পেছনে ফেলে টানা ১০ জয়ে ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। যেখানে তাদের একমাত্র বাধা সিলেট স্ট্রাইকার্স। এর আগে তিনবার ফাইনালে উঠে কুমিল্লা একবারও হারেনি। এবারও শিরোপা হাতছাড়া করতে চায় না তারা। দলের অধিনায়ক ইমরুল কায়েস জানিয়েছেন , ‘প্রথম তিনটা ম্যাচ হারার পর যেভাবে ফিরে এসেছি, এটা অবশ্যই আমাদের খেলোয়াড়দের কৃতিত্ব দিতে হবে। সবাই খুব পরিশ্রম করেছে এবং চেয়েছে আমরা ফাইনাল খেলবো। আশা করি আমরা একইভাবে এগিয়ে যাবো। শুধু ফাইনাল হিসেবে নয়, কালকে একটা সাদামাটা ম্যাচের মতো পরিকল্পনা করেই ম্যাচ খেলবো। যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি ভালো ফলাফল আসবে।’
দুই দলের ব্যাটিং শক্তি প্রায় একই রকম হলেও বোলিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে সিলেট। কুমিল্লার বোলিংয়ে আন্দ্রে রাসেলের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান, তানবীর ইসলাম, মঈন আলী, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধরা ভালো বোলিং করছেন। সিলেটের সাকিব, রুবেলের সঙ্গে লিউক উড, জর্জ লিন্ডে আগের ম্যাচে ভালো করেছেন। ফাইনালে বোলিং শক্তি পার্থক্য গড়ে দিতে পারে এমন ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইমরুল মনে করেন, ‘দুই দলেরই বোলিং শক্তিশালী বলে মনে করি। বোলিং শক্তিশালী না হলে তো ফাইনাল খেলতে পারতো না। এই সিদ্ধান্তটা আসলে মাঠেই হয় (কারা শক্তিশালী)। এখানে বলা কঠিন।’








