গোলপোস্টের নিচে ছিলেন না নিয়মিত কিপার থিবো কোর্তোয়া। মঙ্গলবার লা লিগার ম্যাচে তার স্থলাভিষিক্ত হন আন্দ্রি লুনিন, যার রাত কেটেছে দুঃস্বপ্নের মতো। আগের সাত ম্যাচের ছয়টিতে গোলপোস্ট অক্ষত রাখা রিয়াল মাদ্রিদ চার গোল খায় জিরোনার কাছে! ৪-২ গোলে ‘অবিশ্বাস্য’ এই হারের পর ক্ষমা চাইলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
জিরোনার ২৪ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড ভ্যালেন্টিন ক্যাস্তেয়ানোস দুই অর্ধে দুটি করে গোল করেন। তার ইতিহাস গড়া চার গোলের এই ম্যাচ নিশ্চিতভাবে ভুলে যেতে চাইবে রিয়াল। ম্যাচ শেষে নিজেদের ভুল বিশ্লেষণ করে আনচেলত্তি বললেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। (মাদ্রিদ) ভালো ধারাবাহিকতার মধ্যে ছিল, বিশেষ করে রক্ষণাত্মকভাবে। কিন্তু এই ম্যাচে আমরা রক্ষণে অনেক বেশি জায়গা দিয়েছি।’
প্রথমার্ধে ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে ৩৬ সেকেন্ডের মাথায় আরেকটি গোল খেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারানোর কথা স্বীকার করলেন ইতালিয়ান কোচ, ‘দ্বিতীয়ার্ধে এক মিনিটের মধ্যে গোল করলো, ওখানেই তারা আমাদের শেষ করে দিয়েছে। আমরা কষ্ট পাচ্ছি, কিন্তু আমাদের সবাইকে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। যে রিয়াল মাদ্রিদকে সবাই চেনে, সেই খেলা আমরা খেলতে পারিনি। এটা ছিল বাজে রাত, আমরা ক্ষমা চাইছি।’
রিয়াল ৭ ম্যাচ হাতে রেখে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষ দল বার্সেলোনা রায়ো ভায়েকানোকে বুধবার হারালে মাদ্রিদ ক্লাব ১৪ পয়েন্ট পেছনে পড়ে যাবে। শিরোপার স্বপ্নও ফিকে হবে। তাই লিগে ট্রফি ধরে রাখার চেয়ে কোপা দেল রে ফাইনাল ও চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে মনোযোগ দিচ্ছেন আনচেলত্তি।
আগামী ৬ মে ওসাসুনার বিপক্ষে কোপা দেল রে ফাইনাল। তারপর ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দুই লেগ ৯ ও ১৭ মে। কোচের আশা, জিরোনা হার থেকে তার দল শিখবে। আনচেলত্তি বলেন, ‘হার কখনও ভালো নয়। কিন্তু রক্ষণে দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ। যদি সেটা থাকে, আমরা জিতবো। না থাকলে ভুগতে হবে। এটাই আসল। আজ আমাদের সেটা ছিল না। সাত ম্যাচে আমরা ছয়টি ক্লিনশিট রেখেছিলাম। আর এই এক ম্যাচে খেলাম চার গোল। আশা করি খেলোয়াড়রা বুঝবে, না বুঝলে প্রতিদিন আমি এটা বলবো। ভক্তরা জানে কাপ ফাইনাল ও (চ্যাম্পিয়নস লিগ) সেমিফাইনালে আমরা ভালো করবো।’









