উড়িষ্যার ভুবনেশ্বরে চার জাতি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাফ অভিযান শুরু করতে চেয়েছিল লেবানন। তবে স্বাগতিক ভারতের কাছে ফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধের দুই গোলে হেরে স্বপ্নপূরণ হয়নি। বুকে জ্বালা নিয়েই এখন সাফ খেলতে বেঙ্গালুরুর বিমান ধরতে হচ্ছে তাদের। ফাইনাল হারলেও তাদের আত্ববিশ্বাসে একটু চিড় ধরেনি। প্রথমবারের মতো সাফে খেলতে এসে বরং হুঙ্কার দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
সাফে আট দেশের মধ্যে লেবানন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। ৯৯তম স্থানে থেকে ফেভারিটের তকমা নিয়ে যাত্রা হবে তাদের। দলটির আন্তর্জাতিক সাফল্য কমই। আরব কাপ ও প্যান আরব গেমসে তৃতীয় হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। দলটির কোচের দায়িত্ব পালন করছেন সার্বিয়ান আলেক্সান্দার ইলিচ। ৫৩ বছর বয়সী কোচ গত বছর থেকে লেবানিজদের ডাগ আউটে আছেন।
উড়িষ্যায় লেবাননের যে দল অংশ নিয়েছিল, সাফে বরং কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন ইলিচ। একটি দল হিসেবে তাদের গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। বাংলা ট্রিবিউনকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আশার কথা জানালেন লেবানন কোচ, ‘মূল জাতীয় দলই খেলবে সাফে। যে কোনও ইতিবাচক ফলই আমাকে আনন্দিত করে। কোচ ও খেলোয়াড় হিসেবে আগে আমার ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার লেবাননের হয়ে সাফল্য পেতে চাই।’
সাফে লেবাননের গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও ভুটান। র্যাঙ্কিংয়ে অন্যরা অনেক পিছিয়ে। তারপরও ইলিচের কণ্ঠে সমীহের সুর, ‘সাফে গ্রুপটা ভালো হয়েছে। এখানে সবাই নিজেদের অবস্থানটা বুঝতে পারবে। কে কোথায় আছে জানতে পারবে। আমরা ভালো ফল করতে চাই। সেরাটা দিয়েই ভালো ফল করার লক্ষ্য আমাদের। টুর্নামেন্টে আমাদের নিজেদের সেভাবেই প্রমাণ করতে হবে।’
উড়িষ্যার চার জাতি টুর্নামেন্টে রানার্সআপ হয়ে কিছুটা মন খারাপ সার্বিয়ান কোচের। চেয়েছিলেন ইতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঙ্গালুরু যেতে। কিন্তু তা হয়নি। আগে রাতে ফাইনালে হার নিয়ে কোচ বলেছেন, ‘আমার হাতে পর্যাপ্ত খেলোয়াড় সেভাবে কম ছিল, যাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলানো যেতো। এছাড়া শেষের দিকে খেলোয়াড়রা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আমাদের ফিনিশিংও ভালো হয়নি। তাই ফাইনাল জেতা সম্ভব হয়নি। আশা করছি সাফে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠবো। কিছু নতুন খেলোয়াড় যোগ দিতে পারে। তখন ভালো ফল করা সম্ভব হবে।’
হতাশা কাটিয়ে আশার আলোর বার্তা দিয়ে ইলিচ বলেছেন,‘সাফের আগে ভালো অভিজ্ঞতা নেওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু হয়নি। আমাদের দলটি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে এগোচ্ছে। একটা নতুন দল হয়ে খেলার চেষ্টা করছে। আমরা চাই সাফে ভালো ফল করতে। দল ভালো পারফরম্যান্স করতে পারলে তখন পরিষ্কার হবে যে উন্নতির মধ্যে আছে। সেটাই হবে আনন্দঘন মুহূর্ত। তাই যে কোনও দলের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে পারাটা হবে ইতিবাচক দিক। সেরা দল নিয়েই সাফে খেলবো।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে লেবানন ও ভারত সবচেয়ে এগিয়ে। কুয়েতও কম নয়। এই তিন দলের মধ্যে যে কোনও একটি দলই কি সাফ ট্রফি জিততে পারে? উত্তরে ইলিচ সরাসরি বলেছেন, ‘ভারতের দলটি ভালো। তারা অনেক উন্নতি করছে। ফুটবলে তাদের বিনিয়োগ অনেক। যা আমাদের জাতীয় দলের জন্য সেভাবে হচ্ছে না। তবে আমাদের খেলোয়াড়রা যে কোনও সমস্যা উতরে যাচ্ছে। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা তিন দলের মধ্যে একটি শিরোপা জেতার সামর্থ্য রাখে।’









