বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেছে বাংলাদেশ। বিরতির পর বাংলাদেশ দুটি পরিবর্তন এনেছে। মোহাম্মদ সোহেল রানার জায়গায় নেমেছেন মজিবর রহমান জনি। আর রাকিবকে উঠিয়ে নামানো হয়েছে রফিকুল ইসলামকে। তার পরেও আক্রমণে সেভাবে তেজ ছিল না। দুই দল চেষ্টা করলেও ব্যবধানে হেরফের করতে পারেনি কেউ।
প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে এগিয়ে বাংলাদেশ
বঙ্গবন্ধু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বড় প্রত্যাশা নিয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভুটানের বিপক্ষে একটি পয়েন্ট পেলেই লাল-সবুজরা ২০০৯ সালের পর সেমিফাইনাল খেলবে। শুরুতে ধাক্কা খেয়ে ম্যাচ শুরু করলেও পরে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে ম্যাচটা তারা খেলছে পূর্ণ তিন পয়েন্টের লক্ষ্যেই। পিছিয়ে পড়েও ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষ করেছে।
৯ মিনিটে ভুটানও আক্রমণে গিয়েছিল। কিন্তু ডি বক্সের প্রান্ত থেকে শেরুব দর্জির জোরালো শট শুয়ে পড়ে তালুবন্দি করেছেন গোলকিপার জিকো। কিন্তু ১২ মিনিটে দারুণ এক গোলে বাংলাদেশ শিবিরে ভয় ধরিয়ে দেয় ভুটান। বক্সের বাইরে থেকে তপু বর্মণকে কাটিয়ে তিশেল থ্রিম নামগিল জোরালো শটে জিকোকে পরাস্ত করে ভুটানকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলও পেতে পারতো তারা। নিমা ওয়াংদি দু’জনকে কাটিয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নিলেও সেটি ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়েছে।
একাদশে মোরসালিন
গুরুত্বপূর্ণ এই খেলায় আগের ম্যাচ থেকে একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছেন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। চোটের কারণে ডিফেন্ডার তারিক কাজী নেই। তার জায়গায় রহমত মিয়া খেলবেন। উইংগার ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন মালদ্বীপের বিপক্ষে তৃতীয় গোল করা শেখ মোরসালিন। এছাড়া মালদ্বীপ ম্যাচে শুরুর একাদশে খেলা ৯ জনই থাকছেন।
আগের মতো সম্ভাব্য ৪-৪-২ ছকে ভুটানকে বধ করার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের জন্য প্রেরণার দিকটি হলো সাফে ৬ বারের দেখায় ভুটানের কাছে কখনও হারেনি বাংলাদেশ। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ বারের লড়াইয়ে জয়ের পাল্লাই ভারি। জয় ১০টিতে, ড্র দুটি, হার মাত্র একটি।
‘বি’ গ্রুপে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা হয়ে শেষ চারে নাম লিখিয়েছে লেবানন। তিন ম্যাচে দুই হার ও এক জয়ে বর্তমানে মালদ্বীপের পয়েন্ট ৩। দুই ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্টও ৩। পয়েন্ট তালিকায় ভুটানের অর্জন শূন্য। মালদ্বীপের হারে এখন ভুটানের বিপক্ষে ড্র করলেই সেমিফাইনালের টিকিট পাবে বাংলাদেশ। তখন জামালদের পয়েন্ট হবে চার। এছাড়া হেরে গেলেও নকআউট পর্বে খেলার সুযোগ থাকবে।
তখন বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও ভুটানের পয়েন্ট হবে সমান ৩ করে। পয়েন্ট ও হেড টু হেড সমান হওয়ায় তিন দলের গোল পার্থক্যের হিসাব বিবেচনায় আসবে। গোল পার্থক্যে বর্তমানে বাংলাদেশ +২, মালদ্বীপ ০ এবং ভুটান -২ নিয়ে অবস্থান করছে। অর্থাৎ ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও তিন দলের মধ্যে গোল পার্থক্যে শেষ হাসি হাসবে বাংলাদেশ। কিন্তু ২-০ গোলে হারলে গ্রুপে গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে শেষ চারে যাবে মালদ্বীপ। আবার বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারালে লেবাননের সঙ্গী হবে ভুটান।
বাংলাদেশ একাদশ:
আনিসুর রহমান জিকো, জামাল ভূঁইয়া, তপু বর্মণ, মোহাম্মদ হৃদয়, রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, বিশ্বনাথ ঘোষ, রহমত মিয়া, মোহাম্মদ সোহেল রানা, সোহেল রানা ও ঈসা ফয়সাল।









