গত তিন বছরেও স্থানীয় কোনও কোচের দেশের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি। কোচিং কোর্স করতে হলে তখনকার বিতর্কিত টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল থমাস স্মলি ছিলেন বড় ভরসার নাম। ইংলিশ বংশোদ্ভুত স্মলি এখানে কাজ করার সময়ে প্রচুর কোর্স করিয়েছেন। তার অধীনে শতাধিক লাইসেন্সধারী কোচও বেরিয়েছেন, যদিও এ নিয়ে নানান বিতর্ক রয়েছে। এখন আর তিনি নেই। সাইফুল বারী টিটু নতুন দায়িত্বে। এএফসি প্রো লাইসেন্সধারী কোচ হয়ে তিনিও পারেন কোচিং কোর্স করাতে। তারপরও কোচিং কোর্স করতে বাংলাদেশ থেকে অল্প দিনের ব্যবধানে ৫ জন কোচ দেশের বাইরে গেছেন। কিন্তু কেন?
কিছু দিন আগে ভারতের কর্ণাটকে এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স করে এসেছেন ফর্টিস এফসির ম্যানেজার রাশেদুল ইসলাম। সেখানে কয়েক দফা গিয়ে সার্টিফিকেটও নিয়ে এসেছেন। শুধু রাশেদুলই নন, আজ থেকে মালদ্বীপে শুরু হওয়া এএফসি ‘এ’ লাইসেন্সের জন্য দেশ থেকে চার জন কোচ গেছেন সেখানে।
এর মধ্যে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুন, ফর্টিস এফসির সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু, এলিট একাডেমির মেহেদী হাসান সিদ্দিকী ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের গাম্বিয়ার কোচ ওমর সিসে।
দেশে কোচিং কোর্স হলে অপেক্ষাকৃত খরচ অনেক কম পড়ে। দেশের বাইরে গেলে তখন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তারপরও কেন কোচেরা দেশের বাইরে গিয়ে কোর্স করছেন! প্রশ্নটা শুরুতে রাখা হয়েছিল রাশেদুল ইসলামের দিকে।
বাংলা ট্রিবিউনকে জাতীয় দলের সাবেক মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আসলে আমি যখন কোর্স করতে ভারতে যাই, তখন বাফুফেতে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর কেউ ছিলেন না। কোনও কোর্সও হয়নি। তাই নিজের তাগিদে ভারতে গিয়ে কোর্স করেছি। যদি দেশে হতো, তাহলে হয়তো এখানে করার সুযোগ ছিল।’
এরপর ভারতে কোর্সের মানও ভালো বলে সেখানে গিয়েছিলেন রাশেদুল, ‘এছাড়া আমার কাছে মনে হয়েছে ভারতে কোর্সের গুণাগত মান ভালো। কারণ একটি কোর্সের ভালো মন্দ অনেকাংশে নির্ভর করে কোর্সের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী কারা তাদের ওপর। যখন দেখবেন অন্যান্য কোর্সমেটরা অনেক দক্ষ,তখন আপনিও নিজেকে ওই পর্যায়ে নিতে চাইবেন।’
জাতীয় দলে সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও মালদ্বীপে যাওয়ার আগে কিছুটা অসহায় সুরে বলেছেন, ‘আমি বাফুফেতে খোঁজ নিয়েছি। এই বছর এ লাইসেন্স কোর্স হবে কিনা টিটু ভাই (টেকনিক্যার ডিরেক্টর) নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। যেহেতু জাতীয় দলে কাজ করছি তাই লাইসেন্সটা বেশ দরকার। তাই মালদ্বীপে সুযোগটা পেয়েই ওখানে করছি।’
অন্যদের বেলাতেও একই ঘটনা। এএফসি জাতীয় দল কিংবা প্রিমিয়ারে ডাগ আউটে দাঁড়াতে হলে এএফসি প্রো কিংবা ‘এ’ লাইসেন্সধারী আবশ্যক করেছে। তাই যাদের নেই, তারাও তা দ্রুত পেতে চাইছে। আবার এটাও ঠিক, পল স্মলি মালদ্বীপে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হয়ে কাজ করছেন। তার অধীনে হবে এ লাইসেন্স কোর্স।
যেহেতু স্মলির সঙ্গে অনেকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। তাই সেখানে লাইসেন্স করতে সুবিধা হচ্ছে। হাসান আল মামুন তাই বলেছেন, ‘স্মলি আমাদের সবাইকে চেনেন, জানেন। ঢাকায় যেহেতু কোর্স হচ্ছে না, তাই সেখানে যোগাযোগ করে যাচ্ছি। ওখানে অন্য দেশের কোচরাও থাকবেন। শেখারও সুযোগ আছে। আর ঢাকায় হলে তখন আর এত টাকা দিয়ে মালদ্বীপে করার সুযোগই খুঁজতাম না।’
পুরো বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে টেকনিক্যাল ডিরেক্টর টিটু মালয়েশিয়াতে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনও সাড়া মিলেনি। বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার অবশ্য ইতিবাচক কথা বলেছেন, ‘আমরা সি লাইসেন্স কোর্স শুরু করছি। ডিসেম্বরে এ লাইসেন্স কোর্স হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি যারা কোচিং করতে চাইবেন, তারা করতে পারবেন।’








