মোহামেডানেরই প্রাণ পুরুষ ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ককে মোহামেডানেই মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তথা গার্ড অব অনার দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিংকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি নওগাঁয় জন্ম নেওয়া এই কিংবদন্তি ফুটবল শুরু করেছিলেন পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত টানা খেলেছেন মোহামেডানে। সেই ক্লাবের কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাগআউট সামলেছেন জাতীয় দলেরও। সেই ক্লাবেই কিংবদন্তিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজির হয়েছিলেন সাবেক সতীর্থরা। এসেছিলেন ক্রীড়াঙ্গন সংশ্লিষ্ট অনেকেই।
ক্লাবে পিন্টুর জানাজায় এসেছিলেন তার অন্যতম সতীর্থ মেজর হাফিজ। মোহামেডান ও পাকিস্তান জাতীয় দলে এক সঙ্গে খেলেছেন তারা। পিন্টু সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘ক্লাবের অনেক জয় ও ড্র হয়েছে পিন্টুর অসাধারণ পারফরম্যান্সে। তিনি যে কত বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন সেটা এই সময়ে অনেকের পক্ষে বোঝা সম্ভব না। মারকানী খেলোয়াড়দের মাঝেও তিনি পাকিস্তান জাতীয় দলে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় ছিলেন। পাকিস্তান দলের চেয়ে মোহামেডানের জার্সিতে খেলা কঠিন ছিল। সেই সময় সে টানা আটবারের অধিনায়ক। ফলে খেলোয়াড় হিসেবে তার উচ্চতা কোন পর্যায়ের তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
ক্লাব প্রাঙ্গণের মাঠে ছোট্ট মঞ্চে রাখা হয় পিন্টুর মরদেহ। সেখানে ক্লাব, বিভিন্ন ফেডারেশন, অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন,সাবেক খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
মোহামেডানে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও জানাজার পর জাকারিয়া পিন্টুর মরহে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে। সেখানে তাকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা।
কিছুদিন ধরেই বেশ অসুস্থ ছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাননি। রবিবার অসুস্থতা আরও বেড়ে গেলে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি হন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথম অধিনায়ক। সেখানেই সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
সোমবার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে হিমঘরে রাখা হয়েছিল তার মরদেহ। লন্ডন প্রবাসী কন্যা দেশে ফেরার পর মঙ্গলবার বিকালে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।








