ফিফা প্রীতি ম্যাচের প্রথমটিতে নেপালের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার দ্বিতীয় ও শেষ প্রীতি ম্যাচ। র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকরা যে সহজ প্রতিপক্ষ নয়, তা মাঠেই প্রমাণ হয়েছে। সামনে আরও একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ। তবে এই ম্যাচে ড্র নয়, জয়ের স্বাদ পেতে চায় হাভিয়ের কাবরেরার দল। কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে কাল বিকাল পৌঁনে ৬টার ম্যাচটি সরাসরি দেখাবে টি স্পোর্টস।
বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচে নিজেদের খেলাটা খেলতে পারেনি। বিল্ডআপ করে খেলে স্বাগতিকদের ওপর দাপট দেখানোর সুযোগ এসেছে কম। যা এসেছে, তা থেকে গোলকিপার কিরণ জেমজংকে টলানো যায়নি। বিপরীতে স্বাগতিকরা কয়েকবার সুজন হোসেনের পরীক্ষা নিয়েছেন। তাই কালকের ম্যাচটিও কঠিন হবে বলে মানছেন কাবরেরা। সোমবার সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ বলেছেন,‘আবারও নেপালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে পেরে রোমাঞ্চিত। প্রথম ম্যাচটি খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল, একেবারে আমাদের প্রত্যাশামতো। আমরা যেমন প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলাম অক্টোবরের ম্যাচের জন্য, সেটাই হয়েছে।অক্টোবরের ম্যাচ সামনে রেখে আগামীকাল আবারও একটি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি। নিশ্চিতভাবে এটি খুবই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ হবে।’
প্রথম ম্যাচ ড্রয়ের পর এখন জয়ের আশায় কাবরেরা,‘প্রথম ম্যাচটি ড্র করেছি, কিন্তু আমরা জয়ের স্বাদ নিয়ে ফিরতে চাই। সেটি আমাদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে অন্তত আগের পারফরম্যান্স ধরে রাখা, কারণ ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই কার্যকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। তবে অবশ্যই আমরা জয়ের জন্যই নামব। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো কাল জেতার জন্য। জানি দ্বিতীয় ম্যাচেও প্রথমটির মতো বড় লড়াই হবে।’
দশরথের মাঠ সুবিধাজনক নয়। পরিচর্যা সেভাবে করা হয়নি। সব মিলে এই মাঠে ভালো খেলা কঠিনই। বাংলাদেশ কোচ সেটি মেনে বলেছেন,‘মাঠের অবস্থা যে ভালো হবে না, সেটা জেনেই আমরা এখানে এসেছি। মাঠটা ভারি, বিশেষ করে দুই পাশে। আরেকটা ব্যাপার হলো, ঘাস অনেক লম্বা এবং পানি দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে খেলোয়াড়দের জন্য খেলাটা কঠিন হয়ে গিয়েছিল। বল ধীর হয়ে যাচ্ছিল, মাঠটাও ভারি হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সবকিছু নেমে এসেছিল একের পর এক শারীরিক লড়াইয়ে। তবে জানতাম পরিস্থিতি এমনই হবে। ম্যাচটি আরও বেশি ইনটেন্স ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। আমাদের কাছে কোনও অজুহাত নেই। নেপালও একই মাঠে খেলেছে।’
প্রথম ম্যাচে কুঁচকির চোটের কারণে মিতুল মারমা খেলেননি। কাল খেলার কথা রয়েছে। তবে সুজন হোসেনর পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি কাবরেরা,‘সুজন লম্বা সময় ধরে সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। সহজ ছিল না তার জন্য, কারণ শুধু মিতুল নয়, শ্রাবণেরও মান অনেক উঁচু ছিল। কিন্তু সে ভীষণ পেশাদার, সবসময় দলকে সহায়তা করেছে। পরিস্থিতির কারণে সেদিন সে সুযোগ পেয়েছিল এবং খুব ভালো পারফরম্যান্স করেছে। সে ভীষণ শান্ত, পরিণত খেলা খেলেছে এবং ক্লিন শিটও পেয়েছে। তাই তার জন্য আমি খুব খুশি, খেলাটা তার প্রাপ্য।’









