স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের খুব একটা সুযোগ আছে বলে মনে করেননি অনেকেই। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের সামনে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি উড়ে যাবে বলেই ধারণা ছিল। কিন্তু মাঠের গল্প ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে কেপ ভার্দে। আর সেই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা।
ম্যাচজুড়ে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। কখনও মিকেল ওইয়ারসাবাল, কখনও ফেরান তোরেস, আবার কখনও আইমেরিক লাপোর্তে। তাদের সবাইকে হতাশ করেছেন তিনি।তবে স্পেনের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল সব কিছুর ওপরে। ম্যাচে সাতটি সেভ করে ম্যান অব দ্য ম্যাচও হয়েছেন তিনি।
এমন পারফরম্যান্স দেখে অনেকেরই মনে হতে পারে, নিশ্চয়ই ইউরোপের কোনো শীর্ষ ক্লাবে খেলেন ভোজিনহা? কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বর্তমানে পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভেসে খেলছেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৯ ম্যাচ খেলেছেন এবং ছয়টি ক্লিন শিট রেখেছেন। লিগে শাভেসের অবস্থান ছিল নবম।
ভোজিনহার নামেরও একটা ইতিহাস আছে। তার আসল নামটি জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস। তবে ফুটবল বিশ্ব তাকে চেনে ‘ভোজিনহা’ নামে। পর্তুগিজ ভাষায় যার অর্থ ‘ছোট কণ্ঠ’।
এই ডাকনামের গল্পও বেশ আবেগঘন। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভোজিনহা জানান, শৈশবে তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে বড় হননি। তার বাবা তখন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং মা জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত থাকতেন। ফলে তিনি বড় হয়েছেন দাদা-দাদির কাছে। তার ভাষায়,‘এই ডাকনামটি আমার দাদা-দাদির কাছ থেকে এসেছে। আমি কখনও বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকিনি। জন্মের সময় বাবা সামরিক দায়িত্বে ছিলেন, আর মা কঠোর পরিশ্রম করতেন। তাই আমি দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছি।’
কেপ ভার্দে ছেড়ে তার প্রথম বিদেশযাত্রা ছিল অ্যাঙ্গোলায়। সেখানে গেছেন প্রোগ্রেসো ক্লাবে যোগ দিতে। সেখানেই নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে সঙ্গে নিয়ে যান ‘ভোজিনহা’ নামটিও। শুরুর দিকে অবশ্য এই নাম তার পছন্দ ছিল না, ‘কেপ ভার্দেতে কেউ আমাকে আসল নামে চিনতো না। প্রথমে বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি, আমি বিরক্ত হতাম। তবে অ্যাঙ্গোলায় গিয়ে পরিস্থিতি বদলে যায়। সেখানে আরেকজন গোলরক্ষকের নামও ছিল জোসিমার। আমি বলেছিলাম, জার্সিতে জোসিমার-২ লিখবো না। কেপ ভার্দেতে সবাই আমাকে ভোজিনহা নামে চিনতো, তাই সেটিই রাখলাম।’
এখন তো এই নামটিই বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্রয়ের রাতে ‘ভোজিনহা’ নামটি হয়ে উঠেছে কেপ ভার্দের মূল বিজ্ঞাপন।









