বোস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এল’ ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ঘানার লড়াই শেষ হয়েছে গোলশূন্য সমতায় (০-০)। পুরো ম্যাচজুড়েই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ঘানার সংগঠিত রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যাম, ডেকলান রাইস, হ্যারি কেইন ও ননি মাদুয়েকের সমন্বয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজায় টমাস টুখেলের দল। তবে ঘানা শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে দুই সারির ডিফেন্সিভ ব্লক গড়ে তোলে, যার নেতৃত্বে ছিলেন মাঝমাঠে থমাস পার্টে।
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভালো সুযোগ আসে ১২ মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে, তবে তার শট অল্পের জন্য ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। এরপর মাদুয়েকের ক্রস থেকে রাইসের হেড এবং কেইনের একটি শট ঘানার ডিফেন্ডাররা ব্লক করে রক্ষা করেন।
ঘানা খুব বেশি আক্রমণে না গেলেও মাঝে মাঝে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালায়। আঁতোয়ান সেমেনিও ও জর্ডান আয়েউ সামনে থাকলেও তারা ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে পারেননি। ৪৩ মিনিটে ঘানার প্রথম কর্নারও কোনো বিপদ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের মাঝপথে একাধিক শারীরিক সংঘর্ষ ও ফাউলের ঘটনা ঘটে। জর্ডান আয়েউ ও রিস জেমসের সংঘর্ষের পর খেলা কিছু সময় বন্ধ থাকে। ৪২ মিনিটে ডেকলান রাইস হলুদ কার্ড দেখেন, যা চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের প্রথম সতর্কবার্তা।
প্রথমার্ধের শেষদিকে উত্তেজনা আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ের দিকে জুড বেলিংহ্যাম ও ঘানার ডিফেন্ডার ওপোকুর মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলে সতীর্থরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হাফটাইমে ইংল্যান্ডের বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা মেলেনি। ঘানার রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ও শারীরিক লড়াই তাদের ম্যাচে টিকে থাকতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেও ঘানার ডিফেন্সিভ লাইন ভাঙা সম্ভব হয়নি। ফলে ম্যাচ শেষে দুই দলই এক পয়েন্ট করে ভাগ করে নেয়।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘এল’-এ পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইংল্যান্ড তাদের পরবর্তী ম্যাচে জয় পেতে চাইবে, অন্যদিকে ঘানা বড় দলের বিপক্ষে এই ড্রকে আত্মবিশ্বাস হিসেবে দেখবে।








