বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি স্পেন ও পর্তুগাল। মাঠে এটা শুধু দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তির লড়াই নয়, শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এক ক্ল্যাসিক দ্বৈরথ। ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ফুটবল—সব মিলিয়ে এই ম্যাচ পরিচিত ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’ নামে। রোনালদো-ইয়ামালদের তারকায়ঠাসা লড়াইয়ের আগে জেনে নেওয়া যাক, কেন এই নামেই পরিচিত স্পেন-পর্তুগাল ম্যাচ।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরিয়ান উপদ্বীপে অবস্থিত দুই দেশ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দ্বৈরথে জড়িয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা যায় ফুটবল মাঠেও।
দুই দলের প্রথম আনুষ্ঠানিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর মাদ্রিদে। সেটিই ছিল পর্তুগালের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। সেই লড়াইয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল স্পেন। পর্তুগালকে প্রথম জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। লিসবনে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে তারা স্পেনকে ৪-১ ব্যবধানে হারায়।
১৯২১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৪১ বার। এর মধ্যে স্পেন জিতেছে ১৮টি ম্যাচ, পর্তুগালের জয় মাত্র ৬টিতে। বাকি ১৭টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
বিশ্বকাপ, ইউরো ও উয়েফা নেশনস লিগ মিলিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতায় পর্তুগালের একমাত্র জয় এসেছে ২০০৪ ইউরোতে।
মুখোমুখি লড়াইয়ে স্পেন এখন পর্যন্ত ৭৯টি গোল করেছে, আর পর্তুগালের গোল ৪৭টি।
সবশেষ ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ২-২ সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা জেতে পর্তুগাল।
আইবেরিয়ান ডার্বির স্মরণীয় কিছু ম্যাচ
১৯৩৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: স্পেন ৯-০ পর্তুগাল। ম্যাচে পাঁচ গোল করেছিলেন ইসিদ্রো লাঙ্গারা।
ইউরো ২০০৪: স্বীকৃত প্রতিযোগিতায় স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের একমাত্র জয় পায় পর্তুগাল।
২০১০ বিশ্বকাপ (শেষ ষোলো): ১-০ ব্যবধানে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে যায় স্পেন।
২০১৮ বিশ্বকাপ (গ্রুপ পর্ব): ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে ৩-৩ গোলের রুদ্ধশ্বাস ড্র উপহার দেয় দুই দল।
২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনাল: ২-২ সমতার পর টাইব্রেকারে জিতে শিরোপা ঘরে তোলে পর্তুগাল।







