আটলান্টার কেনেসো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুশীলন মাঠে আর্জেন্টিনা দলের সংবাদ সম্মেলনের জন্য সাংবাদিকদের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছিল না। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪৫ মিনিট পর মাঠে অনুশীলনে নামে লিওনেল স্ক্যালোনির শিষ্যরা। তার আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার মিশরের বিপক্ষে আরও সতর্ক থাকতে চান পারেদেস।
তিনি বলেন, কেপ ভার্দে আমাদের শিখিয়েছে, কোনও ম্যাচই সহজ নয়। অবশ্যই আমরা আগে থেকেই সেটা জানতাম। মিশরও খুব কঠিন প্রতিপক্ষ হবে।
শুক্রবার মিয়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার বলেন, সব সময় নিজের সেরাটা দেওয়া সম্ভব হয় না। আমরা সব সময় সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু সব সময় ভালো খেলা যায় না, নিজের কাঙ্ক্ষিত ফুটবলও উপহার দেওয়া সম্ভব হয় না। কখনও কখনও লড়াই করেই ম্যাচ জিততে হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জয়, আর এভাবেও জয় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বকাপে জার্মানির প্যারাগুয়ের কাছে বিদায় এবং ব্রাজিলের নরওয়ের বিপক্ষে হারের মতো অঘটন প্রসঙ্গে পারেদেস বলেন, এসব ফল আমাকে অবাক করে না। কারণ এখানে সব দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যে কেউ যে কাউকে হারাতে পারে। অবশ্যই ব্রাজিলের বিদায় দুঃখজনক, কিন্তু এই বিশ্বকাপে কোনও সহজ ম্যাচ নেই।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ভালো খেলায় মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে পারেদেসের। তবে বিষয়টি কোচের সিদ্ধান্ত বলেই মনে করেন তিনি।
তার ভাষ্য, আমি সব সময় নিজেকে শুরুর একাদশেই দেখতে চাই। প্রতিদিন অনুশীলনে সর্বোচ্চটা দিই, যাতে সেই জায়গার দাবিদার হতে পারি। তবে আমাদের দলে ২৬ জন খেলোয়াড় আছে। সেরা একাদশ বেছে নেওয়ার দায়িত্ব কোচের। আমাদের কাজ প্রস্তুত থাকা এবং সুযোগের অপেক্ষা করা।’
অপরদিকে, ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনা মনে করেন, কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা ছিল, যা মিশরের বিপক্ষে শুধরে নিতে হবে।
তিনি বলেন, ম্যাচটি নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রক্ষণে আমাদের কিছু সমস্যা ছিল। আরও সংগঠিত হতে হবে। বল আমাদের দখলে থাকলে এমন খেলোয়াড় আছে, যারা প্রতিপক্ষকে ভোগাতে পারে। কিন্তু রক্ষণে আরও গোছানো থাকতে হবে। দুটি গোলই আমরা আরও ভালোভাবে সামলাতে পারতাম।
মিশরকে কঠিন প্রতিপক্ষ উল্লেখ করে মলিনা বলেন, তাদের আক্রমণভাগে বেশ কয়েকজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তাই রক্ষণে সংগঠিত থাকা এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষ নয়, নিজেদের খেলাতেই মনোযোগ দিতে হবে এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতেই রাখতে হবে।
সমর্থকদের প্রত্যাশা নিয়ে মলিনা বলেন, মাঠে আমরা নিজেদের ছন্দেই খেলতে চাই, দর্শকদের আবেগের গতিতে নয়। সমর্থকেরা সব সময় আরও বেশি কিছু চাইবেন। কিন্তু আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শান্ত থাকা, যাতে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো সঠিকভাবে সামলানো যায়।








