বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য উৎসবের মঞ্চে। সংগীত, নৃত্য, আলোকসজ্জা, আতশবাজি, বিশ্বখ্যাত তারকাদের উপস্থিতি এবং বিশ্বকাপ ট্রফি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের সমাপনী অনুষ্ঠান রঙিন হয়ে ওঠে। মাঠে নামার আগেই স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল লড়াইকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর আবহ।
নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের সূচনা করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও স্ট্রিমার আইশোস্পিড। বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান চ্যাম্পিয়নস পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শকদের উজ্জীবিত করেন তিনি। এরপর মঞ্চে ওঠেন মার্কিন সংগীতশিল্পী পোস্ট ম্যালোন। তিনি পরিবেশন করেন তার জনপ্রিয় গান ‘ওয়াও’। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন সুয়ে লি। দুজনে একসঙ্গে গেয়ে শোনান বহুলশ্রুত গান ‘সান ফ্লাওয়ার’।
অনুষ্ঠানজুড়ে চলে ড্রাম শো, শতাধিক নৃত্যশিল্পীর কোরিওগ্রাফি, রঙিন আলোকসজ্জা, ধোঁয়া ও আতশবাজির প্রদর্শনী। মাঠে মেলে ধরা হয় নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন স্থাপনার শিল্পসম্মত নকশা সম্বলিত বিশাল একটি টার্প। ফিফার ‘ফ্যান-সেন্ট্রিক’ ধারণায় সাজানো এ আয়োজনে ৩৬০ ডিগ্রি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে স্টেডিয়ামের প্রতিটি গ্যালারির দর্শকদের অনুষ্ঠানটির অংশ করে তোলার চেষ্টা করা হয়।
ফিফার ঐতিহ্য অনুযায়ী এরপর মাঠে প্রবেশ করানো হয় এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮টি দেশের জাতীয় পতাকা। স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে পতাকাগুলো মাঠ প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক আয়োজন।
সমাপনী অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাঠের কেন্দ্রে হাজির হন হলিউড অভিনেতা টম ক্রুজ। ফুটবলকে বিশ্বের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখা একটি খেলা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই খেলাই মানুষকে একে অপরের কাছাকাছি নিয়ে আসে।’
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে এই টুর্নামেন্টের সমাপনী অধ্যায় উদযাপন করি, উদযাপন করি একে অপরকে।’
এরপর মঞ্চে আনা হয় বিশ্বকাপের ট্রফি। স্পেনের টেনিস তারকা কার্লোস আলকারাজ বিশেষ বাক্স খুলে ট্রফিটি উন্মোচন করেন। পরে স্পেনের ২০১০ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং আর্জেন্টিনার সাবেক বিশ্বকাপজয়ী তারকা মারিও কেম্পেস দর্শকদের সামনে ট্রফি উঁচিয়ে ধরলে করতালি ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
অনুষ্ঠানের আরেকটি আকর্ষণ ছিল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিশিয়াল সংগীত ‘ডিজায়ার’। গানটি যৌথভাবে পরিবেশন করেন ইতালির লরা পাউসিনি, যুক্তরাষ্ট্রের নিকোল শেরজিঙ্গার এবং ব্রিটিশ পপ তারকা রবি উইলিয়ামস। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার হাডসন।
স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে একসঙ্গে দেখা যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফার্স্ট লেডি এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে। ম্যাচ শুরুর আগে ট্রাম্পকে বহনকারী প্রেসিডেন্সিয়াল হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ান স্টেডিয়ামের আকাশে চক্কর দিতেও দেখা যায়।
সমাপনী অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দর্শকদের দৃষ্টি এখন হাফটাইম শোর দিকে। সুপার বোলের আদলে আয়োজিত এই বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ম্যাডোনা, শাকিরা, জাস্টিন বিবার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের। শোয়ের উপস্থাপনা ১১ মিনিটের হলেও মাঠে মঞ্চ স্থাপন ও অপসারণের কারণে বিরতি ২৫ মিনিটেরও বেশি দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ ফাইনালে নজর শুধু মাঠে নয়, মঞ্চেও







