স্প্যানিশ লিগের প্রথম ম্যাচে এলচের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বার্সেলোনায় আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন জাভি এসপার্ট। একাধিক পজিশনে সমান দক্ষতায় খেলতে পারার সামর্থ্য দিয়ে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ। আর এই বহুমুখী দক্ষতার কারণেই বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক আগেই তাকে জার্মান কিংবদন্তি ফিলিপ লামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
গত মার্চে এসপার্টের প্রশংসা করেছিলেন ফ্লিক। বলেছিলেন, বল পায়ে তার আত্মবিশ্বাস দেখে খেলোয়াড়টিকে দেখতে ভালো লাগে। বার্সা কোচের মতে, এসপার্ট তাকে লামের কথা মনে করিয়ে দেন—যিনি মিডফিল্ড কিংবা ফুলব্যাক, একাধিক পজিশনে সমান স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারতেন।
এলচের বিপক্ষে এসপার্ট সুযোগ পান লেফট-ব্যাক হিসেবে। এটি তার নিয়মিত পজিশন নয়। তবু দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। ফেরমিন লোপেজের গোলে সহায়তাও করেন এই তরুণ। আক্রমণ ও রক্ষণ-দুই দিকেই ছিলেন কার্যকর।
ম্যাচে ৮৫ শতাংশ পাস সফল করেন এসপার্ট। ১১টি গ্রাউন্ড ডুয়েলের মধ্যে জেতেন সাতটিতে। এছাড়া তিনটি দ্বৈরথে জয়, একটি সফল ড্রিবল, দুটি ট্যাকল, দুটি ইন্টারসেপশন, পাঁচটি ক্লিয়ারেন্স ও ছয়বার বল দখলে নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তার। অর্থাৎ, নিজের মূল পজিশনে না খেলেও ম্যাচে প্রভাব ফেলতে যে তার কোনো সমস্যা নেই, সেটিই যেন আরও একবার প্রমাণ করলেন।
এসপার্টের এই বহুমুখী দক্ষতা ফ্লিককে দিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা। প্রাক-মৌসুমে তাকে রাইট-ব্যাক ও মিডফিল্ডে খেলিয়েছিলেন জার্মান কোচ। পরে শেষ মুহূর্তে আলেহান্দ্রো বালদেকে পরিকল্পনার বাইরে চলে যেতে হয় বলে এলচের বিপক্ষে তাকে খেলানো হয় বাঁ প্রান্তে।
এসপার্টের এই বহুমুখী দক্ষতার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে বার্সেলোনার একাডেমি লা মাসিয়ার। কারণ, সেখানেই তার বেড়ে ওঠা। সেখানে রাইট-ব্যাক ও মিডফিল্ডার—দুই ভূমিকাতেই খেলেছেন তিনি। ফলে বিভিন্ন পজিশনের কৌশলগত চাহিদা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। বল পায়ে ও বল ছাড়া—দুই অবস্থাতেই জায়গা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাও তৈরি হয়েছে তার।
এই গুণগুলোই ফ্লিকের চোখে এসপার্টকে আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জার্মান কোচ তাকে শুধু একজন প্রচলিত ফুল-ব্যাক হিসেবে দেখছেন না; বরং একাধিক পজিশন থেকে দলকে সমাধান দিতে পারেন—এমন একজন ফুটবলার হিসেবেই দেখছেন।
প্রাক-মৌসুমেও নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার। স্পেনের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পরও বিশ্রামে না গিয়ে নতুন মৌসুমের প্রস্তুতিতে মন দেন তিনি। তার পুরস্কারও পেয়েছেন হাতেনাতে-বার্সেলোনার লিগ মৌসুমের শুরুতেই একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন।
বার্সেলোনায় উদীয়মান প্রতিভাদের মধ্যে এসপার্ট এখন অন্যতম আলোচিত নাম। ক্লাবের ভেতরেও ক্রমেই এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে যে, তার মূল্য কোনো নির্দিষ্ট পজিশনে সীমাবদ্ধ নয়। বরং মাঠে কী প্রয়োজন, তা বুঝে কোচ যে জায়গাতেই তাকে খেলান, সেখানেই বাড়তি কিছু দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তার।
আর এই গুণেই ফ্লিক তার দলে নতুন এক কৌশলগত অস্ত্র খুঁজে পেয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে।









