জাপান ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। রিও ডি জেনেইরোতে অবস্থিত ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সদর দফতরে এই দল ঘোষণা করা হয়। দলে জায়গা পেয়েছেন ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে খেলা ৬ জন ফুটবলার।
দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অনভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখেছেন আনচেলত্তি। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন পাঁচজন নতুন ফুটবলার। তারা হলেন—ক্রুজেইরোর ডিফেন্ডার জোনাথান জেসুস, করিন্থিয়ান্সের মিডফিল্ডার আন্দ্রে লুইস, ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণভাগের খেলোয়াড় অ্যালান এবং শাখতার দোনেৎস্কের দুই ফুটবলার মার্লন গোমেস ও অ্যালিসন সানতানা।
সংবাদ সম্মেলনে নতুনদের নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নিজস্ব কিছু বিশেষ গুণ রয়েছে। জোনাথান জেসুস দারুণ শক্তিশালী, গতিশীল এবং বুদ্ধিমান ডিফেন্ডার। আবার মার্লন গোমেস অত্যন্ত গতিময়। ওদের কাছ থেকে জানা এবং শেখার জন্য এটি উপযুক্ত সময়।’
সিঙ্গাপুর জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী ১৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া ৪টায় জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর তিন দিন পর, ১৭ নভেম্বর সকাল ৭টায় স্বাগতিক সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ব্রাজিলিয়ান লিগ ‘ব্রাসিলেইরাও’-এর শিরোপা দৌড়ে তীব্র লড়াইয়ে থাকা দুই ক্লাব—ফ্ল্যামেঙ্গো ও পালমেইরাসের কোনও ফুটবলারকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি।
বিষয়ে সিবিএফ-এর ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল টিমস রদ্রিগো কায়েতানো বলেন, ‘ব্রাসিলেইরাও সিবিএফেরই একটি মূল টুর্নামেন্ট। জাতীয় দলের স্বার্থ এবং ক্লাবগুলোর লিগ শিরোপার লড়াই—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তাই শিরোপার লড়াইয়ে থাকা দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল থেকে কাউকে না ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য দেশীয় ক্লাবগুলো থেকেও সর্বোচ্চ একজন করে খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে।’
২৬ সদস্যের ব্রাজিল স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: বেনতো (আল-নাসর), লুকাস পেরি (তোরিনো), পেদ্রো মোরিসকো (কোরিটিবা)।
ডিফেন্ডার: আর্থার দিয়াস (অ্যাথলেটিকো-পিআর), কার্লোস অগাস্টো (ইন্টার মিলান), দোগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস (আর্সেনাল), জাইর কুনহা (নটিংহ্যাম ফরেস্ট), জোনাথান জেসুস (ক্রুজেইরো), ভান্দারসন (মোনাকো), ভিটর রেইস (ম্যানচেস্টার সিটি) এবং ওয়েসলি (রোমা
মিডফিল্ডার: আন্দ্রে লুইস (করিন্থিয়ান্স), আন্দ্রে সান্তোস (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), ব্রুনো গিমারেস (আর্সেনাল), দানিলো (বোটাফোগো), গ্যাব্রিয়েল বোনতেম্পো (সান্তোস), জোয়াও গোমেস (অ্যাস্টন ভিলা) এবং মার্লন গোমেস (শাখতার দোনেৎস্ক)।
আক্রমণভাগ: অ্যালিসন সানতানা (শাখতার দোনেৎস্ক), অ্যালান (ম্যানচেস্টার সিটি), এন্দ্রিক (রিয়াল মাদ্রিদ), এস্তেভাও (চেলসি), রাফিনহা (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ) এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।