এক মাস আগেও অনেকের হাতে প্রথমবার উঠেছে হকি স্টিক। নিয়ম-কানুন শেখা থেকে শুরু করে মাঠে নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা। সব মিলিয়ে স্বল্প সময়ের এই প্রশিক্ষণেই বদলে গেছে অনেক কিছু। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে তাদের খেলা দেখে এখন নতুন স্বপ্ন দেখছেন আয়োজকরাও। তৃণমূল থেকে নতুন খেলোয়াড় তুলে এনে নারী হকিকে এগিয়ে নেওয়ার সেই প্রত্যয় নিয়েই শেষ হলো ‘ব্র্যাক ব্যাংক অপরাজেয় আলো নারী হকি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’।
বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে এই ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। নারী হকিতে নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং তৃণমূল পর্যায়ে খেলাটির বিস্তারে এমন কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তরুণী খেলোয়াড়দের হকির মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় একটি প্রীতি ম্যাচ। অল্প দিনের প্রশিক্ষণেই মেয়েদের উন্নতি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাতে চাই আসলে এই ছোট ছোট বাচ্চাদের, যারা বিগত এক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করছে। হয়তো অনেকেই এক মাস আগে প্রথম হকি স্টিক হাতে নিয়েছে। তারপর আজকে আপনাদের খেলা দেখলাম। দেখে আমরা সত্যিই স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। ভালো কিছু হবে ইনশাআল্লাহ।’
নারী হকির উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাক ব্যাংকের ভূমিকারও প্রশংসা করেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশব্যাপী আমরা একটা আন্দোলন করছি। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি ব্র্যাক ব্যাংককে। ব্র্যাক ব্যাংক গত দু’বছর ধরে অসাধ্য সাধন করেছে। অপরাজেয় আলো নামে এই কার্যক্রম শুরু করেছে এবং বাংলাদেশ মহিলা হকি মাত্র কয়েক বছর ধরে হকি খেলা আরম্ভ করেছে। এরই মধ্যে আমরা অনেক বড় বড় সাফল্য অর্জন করেছি। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো।’
তৃণমূল পর্যায়ে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে নারী হকিতে নতুন খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন প্রজন্মের এই খেলোয়াড়দের হাত ধরেই দেশের নারী হকিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন।









