ব্যক্তিগত নৈপুণ্যেই জয় ধরা দিলো

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১২:৩১, অক্টোবর ২২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:২১, অক্টোবর ২২, ২০১৮

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।প্রত্যাশিত জয়ের মাঝেই শুভ সূচনা হলো বাংলাদেশ দলের। তবে এই জয়ের মাঝেও বেশ কিছু হিসেব মেলেনি বাংলাদেশ দলের। কোনঠাসা ব্যাটিংকে এক প্রান্ত থেকে আগলে থাকার দায়িত্ব যে অনিয়মিত ইমরুলকেই নিতে হবে বা দলীয় ব্যাটিং বিপর্যয়ে সাইফউদ্দিনকে এমন দারুণ লড়াকু পার্টনারশিপ গড়তে হবে এই ম্যাচ শুরুর আগে তারা দুজনেও সম্ভবত ভাবেনি। তবে উদ্ভুত চাপ দারুণভাবে সামাল দেওয়ার জন্য এই দুই খেলোয়াড়কে অনেক অভিনন্দন।

এশিয়া কাপেও আমাদের ব্যাটিং মোটেই সুসংগঠিত ছিলো না। অধিকাংশ ব্যাটসম্যানই সফল হতে পারেননি। এই সিরিজে দুর্বলতম জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তা থেকে বের হয়ে আসতে দেখবো এমন প্রত্যাশাই ছিলো। এখন তা দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য রেখে দিতে হচ্ছে।

আট মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছে মিরপুরে, কিন্তু পিচের আচরণে খুশি হতে পারিনি। পিচ তো মন্থর ছিলই, তার সঙ্গে বাউন্সটা বেশ অনিয়মিত ছিল যা বাড়তি সমস্যায় ফেলে ব্যাটসম্যানদের। তাই প্রথম দশ ওভারে ৩০ গজের মাঝে ন্যুনতম ৯জন খেলোয়াড়ের উপস্থিতির বাধ্যবাধকতায় আমাদের ব্যাটসম্যানরা আকাঙ্ক্ষিত ফায়দা নিতে পারেনি। কারণ নিঃসন্দেহে মন্থর পিচ। লিটন দাসকে মিস টাইমিংয়ের শিকার হয়ে ৩০ গজের মাঝে ক্যাচ দিয়ে ফিরতো হলো। ব্যাটসম্যানরা ওভার পিচ বা শর্টপিচ বল না পেলে এই উইকেটে তাদের বড় শট খেলা বেশ মুশকিল।

লিটনের মতো জোর করে বড় শট খেলার চেষ্টা করেননি ইমরুল। পিচের গতির সঙ্গে ধাতস্থ হওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং পরবর্তী পর্যায়ে অনভিজ্ঞ তিন বোলারের বিপক্ষে প্রয়োজন মতো আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। এশিয়া কাপেও প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন ৬ নম্বরে ব্যাট করে এবং কাল ছিলেন এক কথায় দলের ত্রাণকর্তা। তার স্ট্রোকস হয়তো অন্য বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের চেয়ে দৃষ্টিনন্দন নয়, তবে দীর্ঘ সময় পিচে থাকার ও বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য ভবিষ্যতে তাকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ দেবে না বলেই আমার বিশ্বাস। তাই আমাদের বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় ডানহাতি ও বাঁহাতি ব্যাটিং কম্বিনেশনের চেয়ে নির্ভরযোগ্য দুজন বাঁহাতিকেই প্রথম পছন্দে রাখা উচিত।

অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনের বোলিং অ্যাবিলিটি দেখার সুযোগ আগে হলেও এই প্রথম তার ব্যাটিংয়ের মেধা দেখার সুযোগ হলো। উভয় প্রতিভার যথার্থ দেখভাল করতে পারলে এই তরুণ খেলোয়াড় দলের দীর্ঘ সময়ের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। এতদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা অবস্থায় যে কোচ তাকে দেখভাল করেছেন তাকে অনেক অভিনন্দন।

দলের প্রথম ৭ জন ব্যাটসম্যানের ৫ জনের ব্যর্থ হওয়াটা ছিলো দৃষ্টিকটু। মিঠুন চমৎকারভাবে শুরু করলেও মনোসংযোগে প্রতিটি বল সমানভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় তার পক্ষে আকাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো মুশকিল। ৫ নম্বরের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তাকে ব্যাটিং অর্ডারে দেওয়া হয়েছে এবং জিম্বাবুয়ের মতো দলের সঙ্গে রান করে জায়গাটা তার আরও পাকাপোক্ত করা উচিত।

পিচ পুরো ম্যাচে কিছু কিছু সময় বোলারদের পক্ষে আচরণ করেছে। যেমন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের প্রথম ২০ ওভার বা জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে প্রথম ৮ ওভারের পর উল্লেখযোগ্য কিছু সময় মোস্তাফিজের বল পিচে পড়ে কাট করেছে। নাজমুল ইসলাম ছোট ও বড় মাপের টার্ন পেয়েছেন এবং শেষের ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে বল ব্যাটে আসায় তারা কিছু সুবিধা পেয়েছে। হালকা কুয়াশার কারণে তা হয়ে থাকতে পারে। তবে আমাদের বোলিং ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা এশিয়া কাপে যতটা শার্প ছিল, ইউনিট হিসেবে কাল তেমনটি মনে হয়নি। হতে পারে ২৭১ রান করার আত্মতৃপ্তিতে বোলিং ও ফিল্ডিং ইউনিট তাদের সেরা অবস্থায় ছিল না।

জাতীয় স্টেডিয়ামের এই পিচ ও তার আচরণ নিয়ে বরাবরই আমাদের খেলোয়াড়রা অভিযোগ করেছে। দীর্ঘ বিরতির পর তার কোনও উন্নতি চোখে না পড়ায় আমি সত্যিই দুঃখিত। বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে মাশরাফি কী কথা বলেছেন সেটা বোর্ড কর্মকর্তাদের শোনা উচিত। দলের ভালোর জন্য যখন খেলোয়াড় বা অধিনায়কের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হয়, তখন প্রয়োজনে এই গুরুত্বপূর্ণ মাঠের দায়িত্বে থাকা কিউরেটরের জায়গায় আরও ৮ মাস আগে যোগ্য কাউকে বদলি করলে সেটা দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে আরও সুফল বয়ে আনতো বলে আমার বিশ্বাস।

/এফআইআর/

লাইভ

টপ