রেলিগেশন এড়াতে পারলেই খুশি মুক্তিযোদ্ধা

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ১৮:২৬, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২৬, জানুয়ারি ১৭, ২০১৯

১৮ জানুয়ারি শুরু হবে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ। ১৩ দলের এবারের প্রতিযোগিতায় দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। লিগ শুরুর আগে দলগুলোর প্রস্তুতি কেমন, কী তাদের প্রত্যাশা, আর তা পূরণে লক্ষ্যই বা কী- তা নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের এই ধারাবাহিক আয়োজন। আজ থাকছে গত আসরের ১১তম মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে নিয়ে-

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র৯০’র দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র ঢাকার ফুটবলে অন্যতম জায়ান্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়। আবাহনী-মোহামেডানের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে নিজেদের উপস্থিতির জানান দেয় তারা। তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গড়ে চমক দেখিয়েছিল। শিরোপাও কম পাইনি। একাধিক ফেডারেশন কাপ, ঢাকা লিগ ও জাতীয় লিগের ট্রফি তাদের শো-কেসে।

দেশের বাইরেও খেলেছে মুক্তিযোদ্ধা। এএফসির প্রতিযোগিতায় খেলার অভিজ্ঞতা একাধিকবার। কিন্তু সেই দলটি পেশাদার লিগ প্রবর্তনের পর খেই হারিয়েছে। লিগের কোনও ট্রফি জেতা হয়নি, বরং মাঝেমধ্যে দল গঠন নিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে। মাঝারি মানের দল নিয়ে খেলে যাচ্ছে একের পর এক লিগ। এবারের লিগেও ব্যতিক্রম নয়।

তাই শিরোপা লড়াইয়ে থাকার স্বপ্ন দেখাটাও তাদের জন্য বাড়াবাড়ি। মুক্তিযোদ্ধার অত বড় কোনও আশাও নেই। রেলিগেশন এড়িয়ে ভালো জায়গা থেকে লিগ শেষ করতে পারলেই তারা খুশি। দলে সেরকম বড় কোনও মুখ না থাকলেও ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী কোচ আব্দুল কাইয়ুম সেন্টু।

সামনের লিগ নিয়ে এই কোচের লক্ষ্য ‘প্রস্তুতি ভালো। লিগের আসল পরীক্ষার সময় বোঝা যাবে দলের অবস্থা কেমন। উপরের পাঁচ-ছয়টি দল বাদে বাকি সবার শক্তি কাছাকাছি। ভালো কিছু করার লক্ষ্য আছে। আগের চেয়ে ভালো করতে পারলে ভালো লাগবে। রেলিগেশন শঙ্কায় পড়তে চাই না। ভালো জায়গায় থেকে লিগ শেষ করতে চাই।’

কোচের মতোই দল নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শাহ আলমগীর অনিক। নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট এই মিডফিল্ডার। ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলেও লিগে ভালো করার ইচ্ছা তার, ‘কোচ আমাদের ভালো অনুশীলন করিয়েছেন। সবশেষ দুটি প্রতিযোগিতায় যে ভুলগুলো ছিল, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। আশা করছি ভালো কিছু করতে পারব।’

লিগে মুক্তিযোদ্ধার লক্ষ্য নিয়ে অনিকের বক্তব্য, ‘আমাদের লক্ষ্য লিগ টেবিলের ৫-৬ নম্বরে থাকা। এজন্য প্রত্যেক ম্যাচে ভালো খেলতে হবে, তাহলে এগিয়ে যেতে পারব। কোনও ইনজুরি নেই, এটাই আমাদের বড় শক্তি।’

১৮ জন নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এবারের লিগে নামতে যাচ্ছে মুক্তিযোদ্ধা। যোগ হয়েছে নতুন চার বিদেশি- আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড বালো ফামুসা, ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাকোর ডিফেন্ডার শেন অ্যান্থনি বাতেউ, গিনির ডিফেন্ডার ইউনুসা কামারা ও জাপানের মিডফিল্ডার ইউসুকে কাতো।

স্থানীয় খেলোয়াড়: আরিফুজ্জামান হিমেল, আলমগীর মোল্লা, আসিফ হোসেন রিমন, মোস্তাফিজুর রহমান সৈকত, কৃষ্ণপদ বিশ্বাস, তানভীর রানা, শাহ আলমগীর অনিক, শঙ্কর দাশ, মোহাম্মদ শিহাব, মোহাম্মাদ সোহেল, মতিউর রহমান, সৈকত বড়ুয়া উত্তম, মোহাম্মদ ইমন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সৈয়দ রাকিব খান ইভান, মেহেদী হাসান রয়েল, নজরুল ইসলাম টিটন, হাসানুজ্জামান কায়েস, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তোফেল, শেখ নাহিদ উদ্দিন, হাবিবুর রহমান নোলক, মওদুদ হোসেন ফাহিম, মোহাম্মদ রাজিব, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, ওমর ফারুক লিংকন, মোহাম্মদ সুজন বিশ্বাস, রোহিত সরকার ও তোয়েল হোসেন।

বিদেশি খেলোয়াড়: বালো ফামুসা, শেন অ্যান্থনি বাতেউ, ইউনুসা কামারা ও ইউসুকে কাতো।

/টিএ/কেআর/

লাইভ

টপ