‘আরেকটি ইতিহাস গড়ে আবাহনীকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চাই’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২০:৪৩, জুন ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, জুন ২৭, ২০১৯

আবাহনী কোচ মারিও লেমসগত এক যুগে এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ও এএফসি কাপে অংশ নিয়েও নকআউট পর্বে যাওয়া হয়নি আবাহনীর। হতাশার সেই বৃত্ত ভেঙে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) আয়োজিত এএফসি কাপে তৃতীয়বারের চেষ্টায় নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা। এই সাফল্যের নেপথ্যের কারিগর দলটির ৩৩ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমস। তার কোচিংয়ে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগ করলো বড় প্রাপ্তি। এই সাফল্য নিয়ে অনেক কথাই ভারতের আসাম থেকে মুঠোফোনে বাংলা ট্রিবিউনকে শুনিয়েছেন লেমস।

বাংলা ট্রিবিউন: কাল রাতে (বুধবার) নিশ্চয় ভালো ঘুম হয়েছে?

মারিও লেমস: হ্যাঁ। আসলেই তাই। অনেক চাপের মধ্যে ছিলাম। ম্যাচের আগের দিন ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। মিনার্ভার বিপক্ষে ফল কী হয়— তা নিয়ে বেশ টেনশনে ছিলাম। কিছুটা অস্বস্তিও কাজ করছিল। ম্যাচের আগে অনেকেরই শঙ্কা ছিল, বলেছিল, ‘এএফসি প্রেসিডেন্ট কাপ ও এএফসি কাপে আগের আসরগুলোতে শেষের দিকে এসে আবাহনী খেই হারিয়ে ফেলেছিল। এবারও কী তেমন পরিণতি হবে?’ আমি তাদের আশ্বস্ত করেছিলাম, বলেছিলাম, ‘ভরসা রাখুন। ভালো কিছু হবে।’ ম্যাচ জিতে অবশেষে সবার মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন নিজেকে অনেকটা নির্ভার লাগছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এএফসি কাপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আবাহনী। কোচ হিসেবে আপনিও তো ইতিহাসের অংশ হলেন।

মারিও লেমস: আবাহনীকে প্রথমবার নকআউট পর্বে নিয়ে যেতে পেরেছি, এটাই বড় সাফল্য। আর ইতিহাসের অংশ হতে পেরে কার না ভালো লাগে বলুন। শারীরিক সমস্যার কারণে মাত্র ২৪ বছর বয়সে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানতে হয়েছিল আমার। এরপরই কোচিংয়ে আসি। তখনই স্বপ্ন ছিল একজন কোচ হিসেবে সাফল্য পেতে হবে। এই পর্যায়ে এসে সেই স্বপ্ন কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: এএফসি কাপের শুরুতে কী এই প্রাপ্তির কথা ভেবেছিলেন?

মারিও লেমস: হ্যাঁ, আমার বিশ্বাস ছিল। শুরুর ম্যাচে নেপালে মানাং মার্সিয়াংদিকে তাদের মাঠে হারালাম। তখন থেকে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়, এই দল নিয়ে বহুদূর এগোনো যাবে। শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। আমরা প্রথমবারের মতো গ্রুপসেরা হয়েছি।

বাংলা ট্রিবিউন: টুর্নামেন্টের এক পর্যায়ে আপনার দলের নিয়মিত একাদশের দুই খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়ে। এরপর শেষ ম্যাচে দুজন বিদেশিকে ছাড়া খেলতে হয়েছে। এ ব্যাপারে কী বললেন?

মারিও লেমস: ইনজুরির ওপর তো কারও হাত নেই। আর পরিস্থিতি অনুযায়ী আমাকে দল সাজাতে হয়েছে। কিছু করার ছিল না। তবে যাইহোক না কেন, দলে টিম স্পিরিটের ঘাটতি ছিল না। খেলোয়াড়রা সবাই আত্মবিশ্বাসী ছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এই সাফল্য।

বাংলা ট্রিবিউন: এএফসি কাপের সাফল্যে নিশ্চয় অনেক শুভেচ্ছা বার্তা পাচ্ছেন?

মারিও লেমস: তা তো পাচ্ছিই। আসামে ম্যাচের পর আমরা সবাই অনেক মজা করেছি। ড্রেসিংরুম ছাড়াও হোটেলে এসে নেচে-গেয়ে জয় উৎসব করেছি। আবাহনীর সমর্থক ছাড়াও আমার দেশে পর্তুগাল থেকে আমার পরিবার-বন্ধুরা অভিনন্দন জানিয়েছে।

বাংলা ট্রিবিউন: কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথম কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এই অর্জনের অনুভূতি কেমন?

মারিও লেমস: অবশ্যই অনেক ভালো লাগার বিষয়। একজন কোচ হিসেবে সবাই তো সাফল্য চায়। সুযোগ এসেছে, সেটা কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছি। খেলোয়াড়রা ভালো খেলেছে বলেই এই সাফল্য। এজন্য তাদের কৃতিত্ব দিতে হচ্ছে।

বাংলা ট্রিবিউন: নকআউট পর্বে যাওয়ার পেছনে মাসিহ সাইগানির অবদান তো কম নয়।

মারিও লেমস: মাসিহ অসাধারণ খেলেছে। এএফসি কাপে তার ৩ গোল আছে। দলের এই সাফল্যে তাকে কৃতিত্ব দিতে হচ্ছে্। আসলে শুধু মাসিহ নয়, সবাই ভালো খেলেছে। আমার দলে দেখবেন ডিফেন্ডার থেকে শুরু করে মিডফিল্ডার-ফরোয়ার্ড, সবাই গোল পেয়েছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা না থাকলে দল সাফল্য পেতো না।

বাংলা ট্রিবিউন: নকআউট পর্ব নিয়ে কী ভাবছেন?

মারিও লেমস: নকআউট পর্বের প্রস্তুতির জন্য আমরা কিছুটা সময় পাবো। এখনও জানি না আমাদের প্রতিপক্ষ কে। তবে যেই থাকুক, আমরা চেষ্টা করব আরেকটি ইতিহাস গড়ে আবাহনীকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে।

বাংলা ট্রিবিউন: কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল সাফল্য পেয়েছে। এবার এলো ক্লাব ফুটবলে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে কী বলবেন?

মারিও লেমস: এটা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক দিক। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব সাফল্য পাচ্ছে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে।

/কেআর/

লাইভ

টপ