হলো না স্বপ্নপূরণ

Send
গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
প্রকাশিত : ১৩:০০, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৫, নভেম্বর ১১, ২০১৯

গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।অনেক বড় একটা সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলো। বারবার এমন সুযোগের সৃষ্টি হয় না, যা নাকি আমাদের এই দলটি প্রথম ম্যাচ জয়ের মাঝে সৃষ্টি করেছিল। তবে তরুণ হলেও টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞ ভারত রোহিত শর্মার ভূমিকা ছাড়াও দারুণ ব্যাট করছে।

ভারতের ব্যাটিং গভীরতার কথা অনস্বীকার্য। তবে নতুন বলে শফিউল দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে ফেরত পাঠিয়ে যখন চাপের সৃষ্টি করেছিলেন। ঠিক তখনই বিপ্লবের হাত থেকে শ্রেয়াস এর একটা সহজ ক্যাচ পড়ে যায়। যা এই ম্যাচের অনতম একটা টার্নিং পয়েন্ট। শ্রেয়াস তার প্রাপ্ত জীবনের সদ্ব্যবহার করেন ৬৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে। যেখানে প্রায় ২০০ রানের কাছাকাছি স্ট্রাইক রেটে তিনি ব্যাট চালিয়েছেন। এই ম্যাচেও ৫টি ছয় মারলেন এবং পুরো টুর্নামেন্টে শ্রেয়াসকে দেখে মনে হয়েছে তিনি অনেক সাবলীলভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ছক্কা মারেন। তার ও লোকেশ রাহুলের জুটিই ম্যাচটিকে ভারতের পক্ষে করে নেয়। এই জুটির স্ট্রাইক রেটও ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়া রোহিত ও শিখর ধাওয়ানের দ্রুত আউটের পর এ জুটিই ভারতকে চাপমুক্ত করে ও ভারতকে বড় একটা রান সংগ্রহ করার মতো অবস্থানে নিয়ে যায়।

পেস বোলার সহায়ক পিচে মোস্তাফিজের পরিবর্তে শফিউলের হাতে নতুন বল তুলে দিয়ে রিয়াদ বুদ্ধিমানের কাজ করেছেন। শফিউল তার প্রতিদানও দিয়েছেন। পেস বোলিং সহায়ক পিচে খণ্ডকালীন সৌম্য যখন কম রান দিয়ে উইকেটও তুলে নিচ্ছে, সেখানে মোস্তাফিজের অবস্থা যথেষ্ট করুণ। শুধু ফাইনাল বলে নয়, পুরো সিরিজে। বলে তার গতি বৃদ্ধি পেলেও স্লোয়ার বা কাটারের ধার একদমই দেখা যায়নি। যা মোস্তাফিজের নিজের জন্য ও দলের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ। যে পিচে স্পিনের সহায়তা উল্লেখযোগ্য কম বা বল থেমে আসে না তেমন পিচে আফিফ নিজেকে প্রমাণ করতে পারলেন না। এতগুলি বাঁহাতি ভারতীয় ব্যাটসম্যান, অথচ অফস্পিনে কার্যকর ৪টি ওভারের জায়গায় মাত্র ১টি ওভার আমরা করতে পেরেছি। আফিফ বল হাতে প্রথম ম্যাচে ভালো করা ছাড়া ব্যাট হাতে ছিলেন পুরোটাই নিষ্প্রভ।

ভারতের ১৭৪ রান অনেক বড় মনে হলেও মিঠুন ও নাঈম শেখের ৯৮ রানের পার্টনারশিপ খেলাটা আমাদের আয়ত্ত্বের মধ্যে নিয়ে এসেছিল। প্রয়োজন ছিল মাঝখানে আরেকটা ৪০-৫০ রানের পার্টনারশিপ। কিন্তু আমাদের এতই দুর্ভাগ্য যে অলিখিত ফাইনালে ৩বার আমরা জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারালাম। সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহর কাছে দলের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। যা তারা চাহিদাপূর্ণ দিনে প্রদানে ব্যর্থ হলেন। তবে নাঈম শেখ মূলত একাই লড়েছেন ফাইনালে। শেষ অবধি খেলতে পারলে সবার মন ভরতো এবং আমরা হয়তো জয়ের দেখাও পেতাম। নবাগত হিসেবে তিনটি ম্যাচে তিনি ছিলেন ধারাবাহিক ও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী আক্রমণাত্মক এক ব্যাটসম্যান।

সাকিব-তামিম ছাড়া এই সিরিজে দল বেশ ভালোই লড়ার চেষ্টা করেছে। ব্যাটিংয়ের অভাব তেমন পরিলক্ষিত না হলেও সাকিবের বোলিংয়ের অভাব দারুণভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। শফিউল একজন সফল উইকেট শিকারি হিসেবে দারুণ বল করেছেন। আল আমিন ভালো লাইন ও লেন্থে বল করেছেন। সৌম্য ব্যাট হাতে সবার নজর কাড়ার চেষ্টা করেছেন, আফিফ তার সামর্থ্যের ধারে-কাছেও ব্যাট করতে পারেননি দুর্ভাগ্যবশত। এই দল নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে মোটেও মন্দ খেলেনি বাংলাদেশ। ভারত যোগ্য দল হিসেবেই সিরিজ জিতেছে। 

/এফআইআর/

লাইভ

টপ