২০১১ বিশ্বকাপ: মাশরাফির আফসোস আছে, অভিযোগ নেই

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:০৪, মে ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০৯, মে ২৪, ২০২০

ক্রিকেট কখনও কখনও বড্ড নিষ্ঠুর। সেই নিষ্ঠুরতার রূপ মাশরাফি মুর্তজার চেয়ে বেশি দেখেছেন খুব কম ক্রিকেটারই। ক্যারিয়ারজুড়ে চোট ছায়াসঙ্গী হতে থাকা এই পেসার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতা দেখেছেন ঘরের মাঠে ২০১১ বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে। ইনজুরিতে পড়লেও সুস্থ হয়ে বিশ্বকাপ দলে ফেরার সময় তার হাতে যথেষ্ট ছিল। নির্বাচকরা চাইলেই দেশসেরা এই পেসারকে সুযোগটা দিতে পারতেন। কিন্তু সেটি হয়নি। বেদনাহত মাশরাফি নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে সে সময় ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়।

শনিবার ছিল তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডার শেষ পর্ব। শেষটা রাঙাতে তিনি অতিথি করে এনেছিলেন মাশরাফি, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহকে। সেই আড্ডাতেই তামিম ২০১১ বিশ্বকাপের প্রসঙ্গ তোলেন। টাইম মেশিনে চেপে মাশরাফি যেন ফিরে গেলেন ৯ বছর আগের সেই দিনগুলোতে, ‘২০১১ সালের বিশ্বকাপ ঘরের মাঠে, অনেক আগে থেকেই মনের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে নানা রকম রোমাঞ্চ তৈরি হয়েছিল। নিজের দেশে বিশ্বকাপ খেলবো, একটা স্বপ্ন ছিল। বিশ্বকাপের প্রায় দুই মাস আগে ঢাকা লিগ খেলতে গিয়ে আমার লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেলেও একবারের জন্যও ভাবিনি আমি বিশ্বকাপে থাকবো না।

মাশরাফি না থেমেই বলতে থাকেন, ‘শ্রীলঙ্কায় ডেভিড ইয়ং আমাকে দেখলেন। উনি আমাকে বললেন, খেলতে সমস্যা নেই। কিন্তু ঝুঁকি থাকবে যে, খেলতে গেলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। যদি সহ্য করে খেলতে পারি তাহলে সমস্যা নেই। আমি রাজি হয়েছিলাম। ডাক্তার সেভাবেই রিপোর্ট পাঠালো। তারপরও আমাকে নির্বাচকরা নেয়নি। আমার আফসোস হয়তো আছে। কিন্তু কোনও অভিযোগ নেই। আমি কাউকে দোষারোপ করিনি, করবও না।’

বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি বলে একঅর্থে স্ত্রীকে বাঁচাতে পেরেছিলেন মাশরাফি। নিজেই জানালেন সেই কথা, ‘একটা জিনিসি ভাবতে ভালো লাগে আমি যদি খেলতাম, আমার সমস্যা হলেও হতে পারতো। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে আমার স্ত্রীকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করা হয়েছিল। জন্ডিসে আমার স্ত্রী বিলিরুবিন কমে গিয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে ৯৯ ভাগ রোগী বাঁচে না। রাতটা পার করেই অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে, তখন হুমায়ারা মাত্র সাত মাসের। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, যদি ম্যাচে থাকতাম হয়তো আমার স্ত্রীকে আমি হাসপাতালে নিতে পারতাম না। খারাপ লাগা থেকে ভালো লাগে স্ত্রীর কথা চিন্তা করলেই। আসলে আল্লাহ যা করেন, সবকিছু ভালোর জন্য করেন।’

মাশরাফির কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। মাশরাফি না থাকলেও তারা ছিলেন ২০১১ বিশ্বকাপ দলে। মাশরাফির বলা শেষ হতেই মুশফিককে লক্ষ্য করে তামিমের প্রশ্ন- মাশরাফির সুযোগ না হওয়াটা তার কেমন লেগেছিল?

মুশফিক বললেন, ‘মাশরাফি ভাই অধিনায়ক থাকুন আর না থাকুন, মাঠে যেভাবে উনি সবাইকে উৎসাহ দেন... এত বড় টুর্নামেন্ট তার মতো একজন খেলোয়াড়ের খেলতে না পারাটা আমার জন্য অনেক ধাক্কার ছিল। যদিও আমি তখন খুব বেশি কিছু জানতাম না। যতদূর জেনেছিলাম ইনজুরির কারণে উনাকে নেওয়া হয়নি। কিন্তু মাশরাফি ভাই তো ডিটারমাইন্ড ছিলেন, উনি পারবেন। তখন জানান, পরে খুব খারাপ লাগছিল। আমার মনে হয় আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন।’

মুশফিকের কথা শেষ হতেই মাহমুদউল্লাহর কাছে একই বিষয়ে জানতে চান তামিম। মাহমুদউল্লাহর মতে, ২০১১ বিশ্বকাপের দলে থাকার দাবিদার ছিলেন মাশরাফি, ‘আমি যেটা অনুভব করেছিলাম, মাশরাফি ভাইকে কখনোই বলা হয়নি। আমি খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম মাশরাফি ভাইকে। ওই সময় যখন উনি ফিজিওর কাছে আসতেন, তখন দেখতাম উনার চোখ লাল হয়ে থাকতো। বেশ কয়েকবার দেখেছি। আমার খুব খারাপ লাগতো। আমার কাছে মনে হয়েছে মাশরাফি ভাইয়ের সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। বিশ্বকাপ দল ঘোষণার পর দেড় মাসের মতো সময় ছিল। ওই সময়ে মাশরাফি ভাইয়ের সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিতভাবেই ছিল।’

মাহমুদউল্লাহর কথা শেষ হতেই তামিমকে উদ্দেশ করে মাশরাফি বললেন, “তামিম তোর নিশ্চই মনে আছে, আমি আকরাম ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলছিলাম। ডেভিড ইয়ং যখন রিপোর্ট দিয়েছিল, তখন আমাদের ফিজিও ছিল মাইকেল হেনরি। ইয়ংয়ের পুরো রিপোর্টটা ও পড়েনি। মেইল বড় হলে লেখা আসে ‘রিড মোর’। সেটা হেনরি আর ক্লিক করেনি। ওপরেরটুকু পড়ে ওটা কপি করে নির্বাচকদের আমার ফিটনেস রিপোর্ট দিয়ে দেয়। আমি অবাক হয়ে আবার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করি। কিন্তু ও (ইয়ং) জানায় পুরোটাই লিখে দিয়েছিল। পরে আমি হেনরিকে জিজ্ঞেস করি, তুমি এমন রিপোর্ট দিলে কেন? ও আমাকে মোবাইল চেক করতে দেয়। ওর মোবাইল নিয়ে চেক করে দেখি ও ‘রিড মোর’ আর দেখেই-নি। নিচের কোনও রিপোর্ট ও পড়েনি। পরবর্তীতে ও আমাকে সরি বলেছিল।’

/আরআই/কেআর/

লাইভ

টপ