শূন্য থেকে শুরুর অপেক্ষায় মাবিয়া

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:১৩, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৩, জুন ০৩, ২০২০

মাবিয়া আক্তার সীমান্ত১৭ মার্চ শেষবার অনুশীলন করেছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। এরপর কেটে গেছে প্রায় আড়াই মাস। এখনও ফেডারেশনের অনুশীলন কেন্দ্রে গিয়ে ভারোত্তোলন করা হয়নি টানা দুটি এসএ গেমসে সোনাজয়ী এই ক্রীড়াবিদের। করোনাভাইরাসের প্রকোপে বাসায় ‘বন্দি জীবন’ কাটছে তার। তাতে অনুশীলনে থাকতে না পারায় ফিটনেস লেবেল গিয়ে ঠেকেছে তলানিতে।

২০১৬ সালে ভারতের এসএ গেমসে ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতে চমক দেখিয়েছিলেন মাবিয়া। সেই সময়ে পোডিয়ামের ওপর দাঁড়িয়ে তার কান্না ছুঁয়ে গিয়েছিল সবার হৃদয়। তিন বছর পর আরেকটি এসএ গেমসে সোনা জেতেন এই ভারোত্তোলক। নেপালে মেয়েদের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণিতে শ্রেষ্ঠত্ব জিতে আরেকবার দেখান নিজের ঝলক।

এবার লক্ষ্য বানিয়েছেন টোকিও অলিম্পিক। সেজন্য নিভৃতে অনুশীলন করে যাচ্ছিলেন মাবিয়া। কিন্তু করোনা এসে সবকিছু পাল্টে দিয়েছে। গেমস তো এক বছর পিছিয়ে গেছে, সেই সঙ্গে মাবিয়ার অনুশীলনও বন্ধও হয়ে গেছে!

বাসায় কাটছে অলস সময়। অনুশীলনে কবে ফিরতে পারবেন, সেটাও জানা নেই তার। বাংলা ট্রিবিউনকে মাবিয়া বললেন, ‘ক্যারিয়ারে এত সময় কখনও অনুশীলনের বাইরে থাকিনি। এখন তো মনে হচ্ছে যতদিন করোনা থাকবে ততদিন অনুশীলন করা যাবে না। করোনার মধ্যে কেউ ঝুঁকি নিতে চাইছে না। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তখন হয়তো অবস্থা বুঝে ফের অনুশীলন শুরু করতে হবে।’

দীর্ঘদিন অনুশীলনে না থাকার কারণে ফিটনেস নিয়েই তার যত দুশ্চিন্তা। মাবিয়া তাই নতুন করে শুরু করার অপেক্ষায়, ‘অনুশীলন একদম শূন্য থেকে শুরু করতে হবে। অনেকটা নতুন খেলোয়াড়ের মতো। আসলে ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। অনেকের মতো আমার ব্যক্তিগত অনুশীলন করা কঠিন। একে তো সেরকম বাড়িতে থাকি না। অনুশীলন করার জন্য ব্যয়বহুল সরঞ্জামও নেই। এছাড়া আমাদের আয়ও সেভাবে নেই যে সরঞ্জাম কিনে অনুশীলন করব।’

করোনা না থাকলে এতদিনে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতো মাবিয়ার। এরমধ্যে একটি ছিল অলিম্পিকের বাছাই পর্ব। কিন্তু সেটা না হওয়ায় কিছুটা আক্ষেপ আছে তার, ‘অলিম্পিকে হয়তো ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু এর আগে বাছাই পর্বে খেলার সুযোগ ছিল। যেখানে ভালো করতে পারলে সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ হতো। কিন্তু করোনার কারণে প্রতিযোগিতাগুলো বাতিল হয়ে গেছে।’ এখন তিনি তাকিয়ে সামনের দিকে, ‘পরিস্থিতির উন্নতি হলে হয়তো আবার শুরু হবে। তখন অংশ নিতে পারব। তবে তার আগে ফিটনেস ফিরে পাওয়াটা বড় বিষয়।’

/টিএ/কেআর/

লাইভ

টপ