অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে পিএসজির ইতিহাস

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:০৬, আগস্ট ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২, আগস্ট ১৩, ২০২০

পিএসজির উৎসবউৎসবের সব আয়োজন প্রস্তুত ছিল। আর কয়েকটা মিনিট লিড ধরে রাখতে পারলেই প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল- আতালান্তার ডাগআউটে যখন এই অবস্থা, প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের ডাগআউট তখন ছেয়ে গেছে বিষাদে। অথচ তিন মিনিটের ব্যবধানে পুরো দৃশ্যপটটাই গেলো পাল্টে। উৎসবের নগরীতে পরিণত হলো প্যারিস, আর স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় নীল আতালান্তা। অবিশ্বাস্য প্রত্যার্বতনে সেমিফাইনাল পৌঁছে গেছে পিএসজি।

বুধবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের মিনি টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে আতালান্তাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পিএসজি। ৮৯ মিনিট পর্যন্ত লিড ধরে রাখা ইতালিয়ান ক্লাবটি শেষ তিন মিনিটের ঝড়ে বিদায় নিয়েছে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতা থেকে। বিপরীতে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ১৯৯৫ সালের পর প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে প্যারিসের ক্লাবটি।

আরেকবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোর শঙ্কা তৈরি হয়েছিল পিএসজির। ২৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়ার পর কিছুতেই সমতায় ফিরতে পারছিল না। যদিও নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সমতায় ফিরে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে সেই অপেক্ষায় আর থাকতে হয়নি ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের, ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটের গোলে পৌঁছে যায় শেষ চারে।

লিসবনের ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল পিএসজির। কিন্তু সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নেইমার। এরপর আরও একবার সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তবে আতালান্তার মারিও পাসারিচ ভুল করেননি। দারুণ এক গোলে এগিয়ে নেন ইতালিয়ান ক্লাবটিকে।

প্রথমার্ধে নেইমার ছাড়া আর কেউ আলো ছড়াতে না পারায় পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় পিএসজিকে। দ্বিতীয়ার্ধেও তাদের আক্রমণে গতি না থাকায় সুবিধা করতে পারছিল না। বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তবে গোল করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।

ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের আসল রূপ দেখা গেছে ৯০ থেকে ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে মারকিনুসের গোলে সমতায় ফেরার পর অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করেন এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং। দুটো গোলেই আছে নেইমারের ছোঁয়া। প্রথমটিতে ছোট বক্সের সামনে থেকে নেওয়া ব্রাজিলিয়ান তারকার শট পায়ে ঠিকমতো না লাগলেও চলে আসে মারকিনুসের কাছে। একেবারে গোলমুখের সামনে থাকা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড পায়ের আলতো ছোঁয়ায় জড়িয়ে দেন জালে।

আর ইতিহাস গড়া দ্বিতীয় গোলটি নেইমারের চমৎকার পাস থেকে বক্সের ভেতর নিয়ন্ত্রণে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের ক্রস পায়ে লাগিয়ে ঠিকানায় পৌঁছে দেন ৩১ বছর বয়সী চুপো-মোটিং।

সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা পিএসজি শেষ চারে খেলবে আতলেতিকো মাদ্রিদ-লাইপজিগ ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে। আজ রাতে দল দুটি মুখোমুখি হবে কোয়ার্টার ফাইনালের অন্য ম্যাচে।

/কেআর/

লাইভ

টপ