‘বিদেশি কোচ না থাকলেই আমার ডাক পড়ে’

Send
তানজীম আহমেদ
প্রকাশিত : ২২:৩৬, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৯, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০

আবারও হকি দলের দায়িত্বে মাহবুব হারুনজাতীয় হকি দলের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিং পেশায় এসে ২০০৬ সাল থেকে আছেন জাতীয় দলের সঙ্গে। পাশাপাশি ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় আবাহনী লিমিটেডের ডাগ আউটেও থাকেন মাহবুব হারুন। তার আরও একটি পরিচয় আছে- ‘ক্রাইসিস ম্যান’! বিদেশি কোচ না থাকলেই ডাক পড়ে তার। আগামী বছরের মার্চে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সামনে রেখে আজ (মঙ্গলবার) ফেডারেশন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে হারুনকে।

এ নিয়ে অবশ্য কোনও আক্ষেপ নেই হারুনের। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে তার সরল স্বীকারোক্তি, ‘আমার চেয়ে বিদেশি কোচরা অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন। তাই বিদেশি কোচ আসলেই অনেক সময় আমার জায়গা হয় সাইড লাইনে। এ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই। দেশের স্বার্থে যখনই ডাক পড়ে, তখনই কাজ করে যাই। এবারও ফেডারেশন আমার নাম রেখেছে। আমি আগের মতোই কাজ করে যাব। এছাড়া জাতীয় দলের কোচ হওয়াটাও সম্মানের।’

হারুনের খেলোয়াড়ি জীবন বেশ বর্ণাঢ্যময়। মিডফিল্ডার হিসেবে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত খেলেছেন জাতীয় দলে। মাঝে চার বছর ছিলেন অধিনায়ক। এছাড়া ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় দাপট দেখিয়েছেন ১৯৮৬ থেকে ২০০২ পর্যন্ত। অ্যাজাক্স ও ভিক্টোরিয়ায় খেলেছেন এক মৌসুম করে। এছাড়া ক্যারিয়ারের বাকি সময়টুকু কেটেছে আবাহনীতে।

২০১৭ ও ২০১৮ সালে ঢাকায় এশিয়া কাপ ও ওমানে এশিয়ান গেমসের বাছাই পর্বে সবশেষ কোচের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে সাবেক এই মিডফিল্ডারকে। ঢাকার এশিয়া কাপে ষষ্ঠ হলেও এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে রানার্স-আপ হতে হয়েছিল। এছাড়া তার কোচিং ক্যারিয়ারে সাফল্য কম নয়। এর আগের এশিয়ান গেমস কিংবা এশিয়া কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ সেরা হয়েছিল তার অধীনে।

যদিও হারুন মনে করছেন, ‘আমার অধীনে আগে দল সাফল্য পেয়েছে। আবার অল্পের জন্য দেখা গেছে শিরোপা ছুটে গেছে। আমি আমার মতো চেষ্টা করে গেছি।’

মার্চের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়েও আশাবাদী এই কোচ, ‘এখন সিলেকশন কমিটি দল দেবে। তাদের নিয়ে হয়তো শিগগিরই অনুশীলন শুরু হবে। ঢাকার মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এশিয়ার শীর্ষ পাঁচ দল থাকবে। ভারত-পাকিস্তানের মতো দলের সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন হবে। চেষ্টা থাকবে বড় দলকে হারিয়ে যত ওপরের দিকে ওঠা যায়। তবে অনুশীলন শুরু না হলে নিরেট কিছু বলা কঠিন।’

প্রিমিয়ার লিগ চললে খেলোয়াড় বাছাই করতে সুবিধা হতো তার। হারুন বলছেন, ‘লিগ হলে ভালো হতো। খেলোয়াড়রা ভালো ফর্মে থাকার সুযোগ পেতো। এখন আগের যা তালিকা আছে সেখান থেকে হয়তো খেলোয়াড় ডাকবে সিলেকশন কমিটি। এছাড়া ওই সময় অনূর্ধ্ব-২১ দলের প্রতিযোগিতা শেষ হবে। সেখান থেকে খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ আছে।’

ঘরের মাঠে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি যে সম্মানের লড়াই, তাও মানছেন এই দীর্ঘদেহী কোচ। সেজন্য নিজেকে নিংড়ে দিতে প্রস্তুত ‘ক্রাইসিস ম্যান’।

/কেআর/

লাইভ

টপ