বিষন্ন মেসিকে উজ্জীবিতও দেখছেন বার্সেলোনা কোচ

Send
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:১০, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:১৮, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

মেসির সঙ্গে কোম্যান                         -ছবি: এফসি বার্সেলোনাবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। কিন্তু ৭০ কোটি ইউরোর রিলিজ ক্লজের শেকলে লিওনেল মেসিকে আটকে রেখেছে বার্সেলোনা। ক্লাব সভাপতি বার্তোমেউসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন। আদালতে গেলে অনুকূলে রায় পেতেও পারতেন। যাননি, কারণ বার্সেলোনায় ২০ বছর ধরে পরিপুষ্ট আর্জেন্টাইন মহাতারকা কাতালানদের ভালোবাসা হারাতে চাননি। ক্লাবে আরেকটি মৌসুমে থেকে যেতে বাধ্য হয়ে শান্তই ছিলেন এতদিন। যদিও থমথমে আকাশে ঝড়ের আভাস ছিল। সেটি আরেক প্রস্ত বইলো শুক্রবার। প্রিয় বন্ধু লুইস সুয়ারেজের ‘অসম্মানজনক’ বিদায়ে আবারও বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

২০১৪ সালে বার্সেলোনায় এসে সুয়ারেজ দুর্ধর্ষ স্ট্রাইকিং জুটি গড়ে তোলেন মেসির সঙ্গে। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে অসাধারণ বন্ধুত্ব। বার্সেলোনার ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা সুয়ারেজ ২৮৩ ম্যাচে করেছেন ১৯৮ গোল। বিশ্বের অন্যতম সেরা ‘নাম্বার নাইন’, সেই তিনিই কিনা অপাঙক্তেয় হয়ে গেলেন বায়ার্নের কাছে ৮-২ গোলে লজ্জাজনক হারের পর। চ্যাম্পিয়নস লিগের ওই ম্যাচে বার্সেলোনার কে ভালো খেলেছে? বলির পাঁঠা হতে হলো কেবল তাকে! ওই বিপর্যয়ই কোচ কিকে সেতিয়েনকে বিদায় করেছে, বার্সেলোনা কোচের তপ্ত আসনে এসে বসেন রোনাল্ড কোম্যান। দায়িত্ব নিয়েই ডাচ কোচ প্রথমে সুয়ারেজকে জানিয়ে দেন, তাকে তার দরকার নেই। এক মিনিটের টেলিফোন কথোপকথনে কোম্যান উরুগুইয়ান স্ট্রাইকারকে বলে দেন আগামী পরিকল্পনায় তার স্থান নেই। তিনি খুঁজে নিতে পারেন নতুন ঠিকানা।

সুয়ারেজ জুভেন্টাসে যাওয়ার পথ খোঁজেন। সবকিছু ঠিকঠাক হলেও শেষ পর্যন্ত যেতে পারেননি পাসপোর্ট জটিলতায়। অবশেষে মরিয়া হয়ে লা লিগা প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকো মাদ্রিদে গেছেন বলতে গেলে বিনা ফিতে। তাও যেতে হয়েছে অনেক নাটকের পর।

সুয়ারেজের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পরদিন মেসি সরব হন টুইটারে। বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তুলে বলে দেন, ক্লাবের কাছ থেকে ক্লাবের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার এমন অসম্মানজনক বিদায় প্রাপ্য ছিল না। অর্থাৎ এটি দৃশ্যমান যে সুয়ারেজের বিদায়ে মেসি ক্ষুব্ধ ও বিষন্ন। এটি  প্রভাব ফেলবে না? বার্সেলোনা কোচ ও অধিনায়কের সম্পর্কের রসায়নটা ভালো থাকবে?

কোম্যানের মনে হয় না খেলার মাঠে এটি প্রভাব ফেলবে। কারণ মেসি সবসময়ই দল অন্তঃপ্রাণ। রবিবার ন্যু ক্যাম্পে ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে লা লিগার নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচ খেলবে বার্সেলোনা, তার আগে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেছেন বার্সেলানার ডাচ কোচ।

‘এটা স্বাভাবিক যে ছয় বছর ধরে যে বন্ধুকে পাশাপাশি নিয়ে খেলেছে, তার বিদায়ে সে (মেসি) দুঃখ পেয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ যেটি, সে অনুশীলন করছে এবং খেলছে’- সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এভাবেই উদ্ধৃত করেছে কোম্যানকে। বার্সেলোনা কোচের সংযোজন, ‘সে (মেসি) সবার জন্য উদাহরণ। সে দুঃখ পেয়েছে, বিষন্ন, কিন্তু আবার অনুশীলনে ফিরেই সে দারুণ উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ করছে। এটা সে মাঠেও দেখাবে।’

বার্সেলোনা কোচ এটি পরিষ্কারও করে দিয়েছেন যে তাকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, কারণ ক্লাবের বার্তাই সুয়ারেজক দিতে বাধ্য হয়েছেন দায়িত্বের প্রথম সপ্তাহে। ‘অনেকে মনে করতে পারেন আমিই যত নষ্টের গোড়া, আমি খুব খারাপ লোক। অথচ আমি তা নই, আমি তাকে (সুয়ারেজ) সম্মান দিয়েই বলেছি যে হয়তো খুব বেশি খেলার সুযোগ সে পাবে না। তবে যদি সে থেকে যায়, আমি অবশ্যই তাকে বিবেচনা করবো।’

কোম্যানের দাবি, সুয়ারেজের সঙ্গে তার পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্কটি অটুটই আছে, ‘অনেক তরুণ খেলোয়াড় দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য বসে আছে ড্রেসিংরুমে। এটাই তো ফুটবল। লুইস ও আমার মধ্যে এখনও শ্রদ্ধার সম্পর্কটি অটুট। সে চলে গেছে, আমি তার সাফল্য কামনা করি।’

 

/পিকে/

লাইভ

টপ
X