‘ভয়াল সুন্দর’ ডি ভিলিয়ার্সে আবারও জয়ী ব্যাঙ্গালোর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:১৫, অক্টোবর ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২৯, অক্টোবর ১৭, ২০২০

আবারও ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ে জিতলো ব্যাঙ্গালোর          - ছবি: টুইটার দুটি দলের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ‘রয়্যাল’ বা রাজকীয় শব্দটি। রাজস্থান র‌য়্যালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ১৩তম আইপিএলের নবম রাউন্ডে দুই দলের মধ্যে লড়াইটাও হলো রাজকীয়। সেই লড়াইয়ে ৭ উইকেট জিতলো ব্যাঙ্গালোর। জয়ের পেছনে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ‘ভয়াল সুন্দর’ ৫৫ রানের ইনিংস।

প্রথমে ব্যাট করে ১৭৭ রান তুলেছিল টসজয়ী রাজস্থান। এত বড় স্কোরের মূল ভিত্তি অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথের ৩৬ বলে ৫৭ ও রবিন উথাপ্পার ২২ বলে ৪১ রানের দুটি ইনিংস। শেষদিকে অবশ্য রাহুল তেওয়াতিয়াও ১১ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থেকেছেন।

কিন্তু ২ বল হাতে রেখেই ১৭৮ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলেছে ব্যাঙ্গালোর। শেষ পর্যন্ত উইকেটে যদি থাকেন সেট হয়ে যাওয়া ডি ভিলিয়ার্স, কোনও লক্ষ্যই যে অসম্ভব নয় তা আবারও দেখালেন দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৬০ ডিগ্রি ব্যাটসম্যান। দলকে জেতানোর পথে ২২ বলে ৫৫ করে অপরাজিত থাকেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। চার মারতে কষ্ট হলেও ডি ভিলিয়ার্স ছক্কা হাঁকিয়েছেন স্বচ্ছন্দে। একটিমাত্র চারের পাশে তার ইনিংসে ছিল ৬টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ২৫০। অন্যপ্রান্তে গুরক্রীত সিংয়ের কাজ ছিল সময়মতো ডি ভিলিয়ার্সকে স্ট্রাইক দিয়ে যাওয়া। তার ১৭ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ইনিংসটির মূল্য অবশ্য কম নয়। অধিনায়ক কোহলি চেষ্টা করেছিলেন ডি ভিলিয়ার্সের জন্য সহজ একটা মঞ্চ গড়ে দিতে। ৩২ বলে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ করে আউট হয়েছেন, ১টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল তার ইনিংসে। কোহলির সঙ্গে ডি ভিলিয়ার্সের তৃতীয় উইকেট জুটিতে কোনও রানই হয়নি। এই জুটি জমলে রাজস্থানের জন্য অপেক্ষা করতো আরও ব্রিবতকর পরিস্থিতি। কোহলি কার্তিক ত্যাগীর পেস বলে ক্যাচ হওয়ার পর জয়ের জন্য ব্যাঙ্গালোরকে ৪১ বলে তুলতে হতো ৭৬ রান। কী সাবলীলভাবেই না সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেললেন ডি ভিলিয়ার্স। জয়ের জন্য দুই ওভার থেকে যখন ৩৫ রান দরকার, বল করতে আসেন বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাদকাট। তার করা ১৯তম ওভার থেকে ডি ভিলিয়ার্সরা পেয়ে যান ২৫ রান। প্রথম তিন বলেই ডি ভিলিয়ার্স ছক্কা মারেন, গুরক্রীত মারেন একটি চার।

শেষ ওভারে দরকার ছিল ১০ রান। প্রথম তিন বল থেকে ৫ রান এলে অনেকের মনে ভেসে ওঠে সুপার ওভারে ছবি। কিন্তু জফরা আর্চারের চতুর্থ বলটিকেই মিডউইকেটের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে আছড়ে ফেলে সব হিসেব-নিকেশ শেষ করে দেন ডি ভিলিয়ার্স। রাজস্থানের সেরা বোলার আর্চার উইকেটশূন্য, এতেই বোঝা যায় বোলিংয়ে কী খারাপ দিন গেছে স্মিথের দলের। তবে তাদের জন্য সবচেয়ে হতাশার ছিল উনাদকাটের করা ১৯তম ওভারটি।

ব্যাঙ্গালোরের নবম ম্যাচে ষষ্ঠ জয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান-ক্রিস মরিস। ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেটে নিয়েছেন ডানহাতি পেসার। তার ওই বোলিংটা না হলে রাজস্থান আরও বড় রানই তুলতো। জস বাটলারকে পেছনে ঠেলে উথাপ্পাকে ওপেনিংয়ে ফিরিয়ে ভালোই করেছিল তারা।

১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে বেশি জাঁকিয়েই বসলো কোহলির ব্যাঙ্গালোর। রাজস্থান নবম ম্যাচে ষষ্ঠ পরাজয়ে আছে সাতে। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রাজস্থান: ২০ ওভারে ১৭৭/৬ (স্মিথ ৫৭, উথাপ্পা ৪১, বাটলার ২৪, তেওয়াতিয়া ১৯* মরিস ৪/২৬, চাহাল ২/৩৪) ও ব্যাঙ্গালোর: ১৯.৪ ওভারে ১৭৯/৩ (ডি ভিলিয়ার্স ৫৫*, কোহলি ৪৩, পাড়িক্কাল ৩৫, গুরক্রীত ১৯*, গোপাল ১/৩২, ত্যাগী ১/৩২)।

/পিকে/

লাইভ

টপ