জাতীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন সাকলাইন মোস্তফা সাজিদ বুধবার আরও একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত দাবা টুর্নামেন্টে এক রাউন্ড বাকি থাকতেই ১৩ বছর বয়সী দাবাড়ুর ট্রফি নিশ্চিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৭ রাউন্ডে সব কটি ম্যাচই জিতেছে তিতাস ক্লাবের ফিদে মাস্টার।
এই টুর্নামেন্টে সাকলাইন হারিয়েছেন তার চেয়ে বেশি রেটিংয়ের শক্তিশালী তিন প্রতিপক্ষ মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ, সুব্রত বিশ্বাস ও তাহসিন তাজওয়ারকে।
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পর সাকলাইন জানালেন তার স্বপ্নের কথা- হতে চান বাংলাদেশের ষষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার। কিন্তু কোনও অনুশীলন ছাড়াই কি সেটা সম্ভব? অথচ গত কয়েক বছর যে সব আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন সাকলাইন, কোনোটাতে কোচ ছিল না। তাও আবার কোনও অনুশীলন ছাড়াই। ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ- এমনকি গত জুনে সর্বশেষ দুবাই ওপেনেও খেলেছেন কোচ ও অনুশীলন ছাড়াই। তারপরও দুবাইয়ের বি ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ হয়ে জিতেছেন এক হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার।
সাকলাইনের বাবা আবুল কালাম আজাদ বলছিলেন, ‘ও যথেষ্ট মেধাবী। ওর যেটা প্রয়োজন, সেটা হলো ট্রেনিং। অন্তত ছয় মাসের ট্রেনিংও যদি করানোর ব্যবস্থা করা যেতো।’
একই আক্ষেপ সাকলাইনের কণ্ঠেও, ‘আমার ট্রেনিংয়ের খুব প্রয়োজন। ট্রেনিং করে কোথাও খেলতে গেলে খুব ভালো রেজাল্ট হতো। আমি আসলে নিজের চেষ্টায় খেলে যাচ্ছি। প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা একা একা অনুশীলন করি। এটা যথেষ্ট না।’
সাকলাইনের বর্তমান ফিদে রেটিং স্ট্যান্ডার্ড দাবায় ২২০৪। প্রথমে আন্তর্জাতিক মাস্টার, এরপর ধাপে ধাপে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি, ‘আমি এখন দেশের ষষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চাই।’
কিন্তু চাইলেই কি সম্ভব? পাশের দেশ ভারতে দিব্যা দেশমুখ সম্প্রতি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তার উদহারণ টেনে সাকলাইন বলেন, ‘ওরা অনেক সুযোগ সুবিধা পায়। ওদের স্পন্সরও থাকে। ওদের মতো সুযোগ সুবিধা ও ট্রেনিং পেলে আমিও দ্রুতই গ্র্যান্ডমাস্টার হতে পারবো।’
আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে যাওয়ার আগে বেশির ভাগ সময় স্পন্সর জটিলতায় ভোগেন সাকলাইন। তবে সর্বশেষ টুর্নামেন্টে দুবাইয়ে যেতে তাকে সহযোগিতা করেন তিতাস ক্লাবের কর্মকর্তা কাজী সাইদ হাসান।









