২০২৫ সালের জন্য জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত ২৭ জনের নাম প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার মধ্যে ১৪ জন ক্রীড়াবিদ এবং সংগঠক ১৩ জন। এই তালিকায় নিজের নাম না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এসএ গেমসে স্বর্ণপদকজয়ী ভারোত্তোলক হামিদুল ইসলাম।
২০১০ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে ভারোত্তোলনের ৭৭ কেজি ওজন শ্রেণিতে স্বর্ণপদক জিতে সবাইকে চমকে দেন হামিদুল ইসলাম। ওই আসরেই মেহেরপুর থেকে উঠে আসা এই ভারোত্তোলক খেলাটিকে নতুন করে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসেন। এর আগে তিনি ২০০৪ সালে রৌপ্য এবং ২০০৬ সালে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন।
এ ছাড়া প্রায় দুই দশকের ঘরোয়া ক্যারিয়ারে ১৮টি জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১৮টিতেই স্বর্ণপদক জিতেছেন তিনি। গড়েছেন ১২টি রেকর্ড। ২০১০ সালের এসএ গেমসে ৭৭ কেজিতে স্বর্ণপদক জয় তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। একাধিকবার আবেদন করেও এখন পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাননি তিনি। বাছাই পর্ব পেরোনোই যেন তার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্দেশে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন ৫৮ বছর বয়সী এই ভারোত্তোলক। সেখানে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি প্রতিকারও চেয়েছেন তিনি। হামিদুল ইসলাম লিখেছেন,‘আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আমি মো. হামিদুল ইসলাম। শুধু একটি কথা জানতে ইচ্ছা করছে—আমি কি আসলেই জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের যোগ্য নই? আমি এই পুরস্কারের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু আমার আবেদন তারা বাতিল করেছেন। আমি তাদের কাছে জানতে চাই, আমার মধ্যে কী কমতি ছিল যে আমি এই পুরস্কারের যোগ্য নই? ১৯৯৭ থেকে ২০২১ পর্যন্ত আমি জাতীয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক বিজয়ী এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি স্বর্ণ, একটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছি। এরপরও যদি আমাকে জাতীয় পুরস্কার না দেওয়া হয়, তাহলে সেটা আমার সঙ্গে অন্যায় হবে। আমি শ্রদ্ধেয় আমিনুল হকের কাছে আমার সঙ্গে হওয়া এই অন্যায়ের বিচার চাই। আপনি দয়া করে আমার বিষয়টি দেখবেন।’
পরবর্তীতে বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মাধ্যমে ঢাকায় ভারোত্তোলনে এসএ গেমসে প্রথম স্বর্ণপদক এসেছে। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এত পদক জয়ের পর আবেদন করেও ক্রীড়া পুরস্কার পাইনি। অথচ যারা ভারোত্তোলনে ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন, তারা কি আমার মতো এসএ গেমস ও ঘরোয়া আসরে টানা এত পদক জিতেছেন? এটা আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে।’
তার পরই বলছিলেন, ‘যে খেলাটার জন্য সব কিছু দিয়েছি, সেখান থেকেই কোনও স্বীকৃতি পেলাম না। আমার বয়স এখন ৫৮ বছর। যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তাদের ক্যারিয়ার আর আমার ক্যারিয়ার তুলনা করলে বৈষম্যটা বোঝা যাবে। আমি তদবির করতে পারি না—সম্ভবত এ কারণেই পুরস্কার পাইনি। অনেক কষ্ট থেকেই এসব কথা বলছি। আশা করি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমার দুঃখটা বুঝতে পারবেন।’








