নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে মেয়েদের ১০০ মিটার দৌড় শুরুর আগে বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে চলছিল মেয়েদের ফুটবলের ফাইনাল। কাঁচঘেরা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ট্র্যাকের পাশে এসে দাঁড়ান। মেয়েদের ফুটবল ফাইনাল শেষে দুটি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট সামনে থেকে উপভোগ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিশোর-কিশোরীদের সেরার লড়াই উপভোগ করার পর কাছে ডেকে বাহবা জানান দুই বিভাগের চ্যাম্পিয়ন মারিয়া ও জাকির হোসেনকে।
আগের দিন হিটে সেরা সময় করেছিলেন দুজনই। তাই ফাইনালেও তাদেরই ফেবারিট ধরা হচ্ছিল। প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে মেয়েদের বিভাগে সবার আগে ফিনিশ করেন ঢাকার মারিয়া। হিটে ১৩.৮২ সেকেন্ড সময় নেওয়া এই স্প্রিন্টার ফাইনালে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করে ১৩.৭৫ সেকেন্ডে স্বর্ণ জেতেন।
তাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ জানান সিলেটের তিশা আক্তার ও খুলনার অধরা ঐশী। তিশা ১৪.২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় এবং অধরা ১৪.৬২ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন।
প্রধানমন্ত্রীর সামনে দৌড়ে সেরা হওয়ার অনুভূতিটা অন্যরকম ছিল মারিয়ার কাছে। তিনি বলেছেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। আমি কখনো ভাবিনি এভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পাবো। তার সামনে দৌড়ে সেরা হতে পেরে অনেক খুশি লাগছে।’
ঢাকা অঞ্চলের হয়ে খেললেও মারিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। নিজেকে একজন সফল স্প্রিন্টার হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি। এই সাফল্য তাকে আরও বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
মারিয়া বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন একজন বড় অ্যাথলেট হওয়া। দেশের জন্য, আমার বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে চাই। একদিন এশিয়ান গেমস ও অলিম্পিক গেমসের ট্র্যাকে দৌড়ানোর স্বপ্ন দেখি।’
দিনমজুর বাবার হাতে এই সেরা হওয়ার পুরস্কার তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এরপর শুরু হয় ছেলেদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। এই ইভেন্টে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখান খুলনার জাকির হোসেন। আগের দিন হিটে ১১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছিলেন তিনি। ফাইনালে নিজের সময় আরও উন্নত করে ১১.১৫ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে স্বর্ণ জেতেন।
জয় নিশ্চিত করেই ব্যতিক্রমী উদযাপনে মেতে ওঠেন জাকির। প্রথমে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এরপর ছুটে যান সতীর্থ ও কোচদের কাছে।
এই ইভেন্টে জাকিরকে কোনো চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেননি অন্য সাত প্রতিযোগী। রংপুরের জিয়াদ হাসান ১১.২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় এবং রাজশাহীর সুমন শেখ ১১.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন।

বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন সিলেট, বালিকায় রংপুর






