জাপানের আইচি-নাগোয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস। এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশ অংশ নেবে ২২টি ডিসিপ্লিনে। আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেট, সাইক্লিং, ফেন্সিং, ফুটবল, হকি, কাবাডি, কারাতে, টেবিল টেনিস, সাঁতার, সার্ফিং, শুটিং, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, গলফ, জিমন্যাস্টিকস, জুডো ও বিচ ভলিবল- সব মিলিয়ে খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের বড় বহর যাচ্ছে জাপানে। এর মধ্যে কেউ কেউ কোচের পরিচয়েও যাচ্ছেন।
গেমসে দল নির্বাচন ও কর্মকর্তা পাঠানো নিয়ে অবশ্য বিতর্ক থামছে না। ২৯০ সদস্যের জাপানগামী বহরের সরকারি আদেশের (জিও) তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে, কয়েকজন ক্রীড়া কর্মকর্তাকে কোচ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের কারও কারও সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনে কোচিং অভিজ্ঞতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
হকি পুরুষ দলের কোচ হিসেবে তালিকায় নাম এসেছে হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক ফুটবলার মিজানুর রহমান ডনের। যদিও হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান প্রিন্স দাবি করেছেন, ভুলবশত তাকে কোচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি যাবেন সহকারী ম্যানেজার হিসেবে।
বিতর্ক আছে আরও কয়েকটি ডিসিপ্লিনে। জিও তালিকায় ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান, জুডো ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নয়না চৌধুরী ও উশু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দিলদার হাসান দিলুকে কোচ হিসেবে দেখানো হয়েছে। টেবিল টেনিস ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য মোহসিনুল আলমও যাচ্ছেন কোচ পরিচয়ে। অথচ জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন অভিজ্ঞ কোচ মোহাম্মদ আলী।
কুস্তিতে কোচ করা হয়েছে অ্যামেচার কুস্তি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শিরিন সুলতানাকে। সাবেক রাইফেল শুটার ও শুটিং ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্নাকে করা হয়েছে পিস্তল কোচ। আবার সার্ফিংয়ের মূল কোচ রাশেদকে বাদ দিয়ে কোচ পরিচয়ে যাচ্ছেন অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ সাইফুল্লাহ সিফাত।
জাপানগামী বহরে কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) ১৫ জন কর্মকর্তাকে এনওসি ডেলিগেট করেছে। এর বাইরে সরকার সম্প্রতি ২৭টি ফেডারেশনে নতুন অ্যাডহক কমিটি করায় শেষ মুহূর্তে বহরের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন ২৬ জন।
তাদের মধ্যে ২৫ জনই কর্মকর্তা। খেলোয়াড় হিসেবে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন শুধু রাসেল মাহমুদ জিমি। নতুন কর্মকর্তাদের জায়গা করে দিতে অনেক কোচের নাম বাদ পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে নিজের জাপান যাওয়া নিয়েই খুব একটা আগ্রহী ছিলেন না সাবেক শুটার শারমিন আক্তার রত্না। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমি জাপান যেতে চাইনি, অনেকটাই জোর করে ফেডারেশন পাঠাচ্ছে। আসলে দলের সঙ্গে টেকনিক্যাল ব্যক্তি যাওয়া দরকার। এছাড়া আমাদের সেখানে গিয়ে কোচও পরখ করতে হবে। তাই সবমিলিয়ে ফেডারেশন চাইছে আমি যেন যাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে শুরু থেকে আমি বলে আসছি আমি যাবো না। তারা নাছোড়বান্দা। তাই শুটিংয়ের বৃহত্তর স্বার্থের কারণে আমাকে যেতে হয়েছে।’









