ভারতের বিশাল স্কোরের জবাবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছিল সাকিব আল হাসানের ইনিংস। ক্যারিয়ারের ২১তম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। ৬৯তম বলে ১০ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে হাফসেঞ্চুরি করেন সাকিব। আর মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে গড়েন শতাধিক রানের জুটি। কিন্তু ৮২ রানে তিনি আউট হলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ক্যাচ দিয়ে। সাকিব ফেরার কিছুক্ষণ পরই সাব্বির রহমান আউট হন।
৭৪ ওভারে ৬ উইকেট ২৪৬ রান করে চা বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। মাঠে খেলছেন মুশফিক ও মেহেদি হাসান মিরাজ। উমেশ যাদবের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে মুশফিকের সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়েন সাকিব। তার ১০৩ বলের ইনিংসটি সাজানো ১৪টি বাউন্ডারিতে। সাব্বির ১৬ রানে রবিন্দ্র জাদেজার এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।
বড় কয়েকটি ব্যক্তিগত ইনিংসের প্রত্যাশা নিয়ে শনিবার হায়দরাবাদে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুতেই বিপত্তি। প্রথম সেশনে তিনটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় সেশনে তারা হারিয়েছে দুই উইকেট।
তৃতীয় দিন সকালটা শুরু হতেই ভুল বোঝাবুঝিতে আউট হন তামিম ইকবাল। এর পর ফেরেন মুমিনুল হকও। সাকিবের সঙ্গে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে আউট হন আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিন ৬ উইকেটে ৬৮৭ রানে ভারত প্রথম ইনিংস ঘোষণা করলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ১৪ ওভার খেলে ৪১ রানের বিনিময়ে ১ উইকেট হারিয়ে সেই চাপটা আরও বেড়ে যায়। ঘুরে দাঁড়াতে টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটা ভালো ইনিংসের দরকার ছিল। এজন্য তামিম ও মুমিনুলের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল সফরকারীরা। কিন্তু তারা দুজনই ফেরেন দ্রুত।
দলে তিন রান যোগ হতেই তৃতীয় দিন প্রথম উইকেটের পতন হলো। দিনের তৃতীয় ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের চতুর্থ বলে স্কয়ার লেগে ফ্লিক করেছিলেন মুমিনুল। দৌড়ে একটি রানই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নিতে গেলেন ২ রান। দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ক্রিজের মাঝে গিয়ে একটু দ্বিধায় পড়লেন দুজনই। ততক্ষণে উমেশ যাদবের থ্রো থেকে বল হাতে নিয়ে স্ট্যাম্প ভাঙেন ভুবনেশ্বর। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে আউট হন তামিম। ৫৩ বলে থামে তার ২৫ রানের ইনিংস। ২৪ রানে দিন শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি ওপেনার।
১ রানে খেলতে নেমে মুমিনুলও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। মাত্র ১২ রানে উমেশ যাদবের এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। ৬৪ রানে বাংলাদেশ তিন উইকেট হারানোর পর সাকিবের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর জুটি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে। কিন্তু ৪৫ রানের এ জুটি ভাঙেন ভারতীয় পেসার ইশান্ত শর্মা। রিভিউ নিয়েও আম্পায়ারের আউটের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ, ২৮ রানে এলবিডব্লিউ হন তিনি।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিন সৌম্য সরকার ১৫ রানের ইনিংস খেলে আউট হন। তার আগে দ্বিতীয় দিন বিরাট কোহলির ২০৪ ও ঋদ্ধিমান সাহার অপরাজিত ১০৬ রানের সঙ্গে রবিন্দ্র জাদেজার (৬০*) হাফসেঞ্চুরিতে বিশাল স্কোর করে ভারত।
*ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে সাকিবের হাফসেঞ্চুরি
*প্রথম সেশনে তিন উইকেট হারাল বাংলাদেশ
*ভারতের চতুর্থ শিকার মাহমুদউল্লাহ
*হায়দরাবাদে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু
/আরআই/এফএইচএম/








